কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়ার উপকারিতা

আপনি কি জানেন, কয়েক গ্রাম কালোজিরা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য কি ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। কালোজিরাকে বলা হয় সকল রোগের মহা ঔষধ। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কালোজিরা অপরিহার্য একটি খাদ্য, যা আমাদের শরীরের অনেক ধরনের রোগ প্রতিরোধ করে। বিশেষ করে, সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এই কালোজিরা আপনার শরীরের জন্য বিশেষ উপকার বয়ে আনে।
কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়ার উপকারিতা
কিন্তু খালি পেটে কেন? এবং কিভাবে খেতে হবে? এর উপকারিতা ও অপকারিতা ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে চান তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করতে চলেছি কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা।
পেজ সূচিপত্রঃ কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়ার উপকারিতা

ভূমিকা

প্রাচীন কাল থেকে মধু ও কালোজিরা নানা কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মধুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল ও এনজাইম যা আমাদের শরীরকে বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে আমাদের ভিন্ন ধরনের রোগ বালাই আক্রমণ করে। বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের সর্দি-কাশি ও ঠান্ডার মতো মারাত্মক আক্রান্ত হয়ে। এসব সমস্যার সমাধানে মধুর অনেক কার্যকরী ভূমিকা রয়েছে।
তাই আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করতে চলেছি কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়ার উপকারিতা, কালোজিরার ক্ষতিকর দিক বা অপকারিতা, রাতে কালোজিরা খেলে কি হয়, সকালে খালি পেটে কালোজিরা খেলে কি হয়, কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম হাদিস, টানা ৭ দিন কালোজিরা খেলে কি হয় ও মধু ও কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়ার উপকারিতা

হাদিসে বলা হয়েছে, মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের মহা ঔষধ মধু ও কালোজিরা। এটা আমাদের শরীরের বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকে মুক্তি দেয়। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অবশ্যই কালোজিরা রাখা উচিত। অন্যান্য খাদ্য যেমন আমাদের শরীরের কার্যক্রমিত ও রোগ প্রতিরোধ বাড়াই।

ঠিক তেমনি নয় তার থেকে বহুগুনে কালোজিরা সহায়তা করে। কালোজিরা কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়ার নানা ধরনের উপকারিতা রয়েছে। চলুন তাই আর দেরি না করে জেনে নেই কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়ার উপকারিতা গুলো।

  • কালোজিরা হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
  • কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে।
  • স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি করতে দারুন ভূমিকা রাখে।
  • গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমায়।
  • ওজন কমাতে সাহায্য করে।
  • কিডনির সমস্যা দূর করে।
  • ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে অনেক কার্যকারী ভূমিকা রাখে।
  • যৌন শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
  • জন্ডিস ও লিভারের সমস্যা দূর করে।
  • শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি রোগ নিরাময় করে।
  • পিরিয়ডের সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।
  • রিউমেটয়েড আর্থ্রাইটিস বা পিঠের ব্যথা নিরাময়ে সাহায্য করে।
  • শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
  • মায়ের বুকের দুধ বাড়াতে সাহায্য করে।
  • চুল পড়া রোধ করে ও চুলকে উজ্জ্বল ঘন কালো ও মজবুত করে।

কালোজিরার ক্ষতিকর দিক বা অপকারিতা

কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়ার উপকারিতা এর পাশাপাশি কালোজিরার ক্ষতিকর দিক বা অপকারিতা গুলো জেনে নেয়া যাক। পৃথিবীর প্রত্যেকটি জিনিসের কিছু ভালো দিক ও কিছু খারাপ দিক রয়েছে। ঠিক তেমনি কালোজিরাও এর ব্যতিক্রম নয়।

অতিরিক্ত পরিমাণে কালোজিরা খেলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমনঃ চর্ম রোগের সমস্যা, অ্যালার্জি জনিত সমস্যা, শরীরের রক্ত জমাট বাঁধা, বমি বমি ভাব, বুক জ্বালাপোড়া করা, পাকস্থলীর সংকোচন, অকালে গর্ভপাত এবং রক্তে শর্করার পরিমান কমে যেতে পারে।
এছাড়াও যদি কারো ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে কালোজিরা খেতে হবে। তাছাড়া আমাদের অবশ্যই একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে, অতিরিক্ত পরিমাণে কোন কিছুই ভালো না। সুতরাং আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে নিয়ম করে কালোজিরা খেতে হবে।

রাতে কালোজিরা খেলে কি হয়

কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়ার উপকারিতা জানার পাশাপাশি জেনে নেয়া যাক রাতে কালোজিরা খেলে কি হয়। কয়েক গ্রাম কালোজিরা আমাদের শরীরের জন্য অবিশ্বাস্য উপকারী বয়ে নিয়ে আসে। এমন অনেকেই রয়েছেন যারা, রাতে কালোজিরা খেলে কি হয়? এইসব বিষয়ে জানতে চাই। তাই আজকের এই আর্টিকেলে সেই সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।

প্রতিদিন রাত্রে কালোজিরা খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়, পেট ফাঁপা ও ফোলা ভাব কমে যায়, গ্যাস্টিক সমস্যা দূর হয়, আমাশয় রোগ নিরাময় করা যায়, ডায়াবেটিস এর ঝুঁকে কমায়, চুল পড়া প্রতিরোধ করে, ক্যান্সারের ঝুঁকি, এলার্জি সমস্যা সমাধান করে, ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং সেই সাথে আমাদের চুল ঘন কালা ও উজ্জ্বল করে।

সকালে খালি পেটে কালোজিরা খেলে কি হয়

সকালে খালি পেটে কালোজিরা শরীরের জন্য অনেক উপকারী। একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে সকালে খালি পেটে কালোজিরা বিভিন্ন ধরনের উপকারিতা যেমনঃ হজম শক্তি বৃদ্ধি করে, বুক জ্বালা পোড়া ও ফোলা ভাব কমাতে সহায়তা করে, ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে, মাথা ব্যাথা দূর করে

ডায়েটে সহায়তা করে, বিভিন্ন ব্যথা ও মুখের দাগ দূর করে, সর্দি কাশির সমস্যা সমাধান করে, হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট জড়িত রোগ প্রতিরোধ করে, চোখের ব্যথা দূর করে, চুল পড়া বন্ধ করে, দাঁত ব্যথা নিরাময় করে, ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে ও বিভিন্ন প্রকার চর্মরোগ সারাতে সহায়তা করে।

কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম হাদিস

আমাদের ইসলাম ধর্মে কালোজিরা খাওয়ার বেশ কিছু নিয়ম হাদীস রয়েছে। চলুন তাই আর দেরি না করে কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়ার উপকারিতা এর সাথে কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম হাদিস জেনে নেয়।

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেছেন: “তোমরা কালোজিরা ব্যবহার করবে, কেননা এতে একমাত্র মৃত্যৃ ব্যতীত সর্বরোগের মুক্তি এতে রয়েছে”।

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত– তুমি যদি সকালে এক চামচ কালোজিরা ও এক চামচ পানি মিশিয়ে খাও, তাহলে তুমি সেদিন সারাদিন কোনো রোগে আক্রান্ত হবে না।

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত– যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে সাতটি কালোজিরা খাবে, সে কোনোদিন পাগল হবে না এবং কোনোদিন কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হবে না।
হযরত আবু বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত– তোমরা তোমাদের নাকের ভেতর কালোজিরা তেল দাও। এতে প্রতিটি রোগের নিরাময় আছে, ব্যতীত বাতিক ছাড়া।

এছাড়াও, আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রয়েছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সঃ) বলেছেন:

عَلَيْكُمْ بِهَذِهِ الْحَبَّةِ السَّوْدَاءِ فَإِنَّ فِيهَا شِفَاءً مِنْ كُلِّ دَاءٍ إِلاَّ السَّامَ ‏”‏ ‏.‏ وَالسَّامُ الْمَوْتُ

“তোমরা এই কালোজিরা ব্যবহার করবে। কেননা, এতে মৃত্যু ছাড়া সব রোগের প্রতিষেধক রয়েছে।

فِي الْحَبَّةِ السَّوْدَاءِ شِفَاءٌ مِنْ كُلِّ دَاءٍ، إِلاَّ السَّامَ

“কালোজিরায় মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের আরোগ্য রয়েছে।

উপরের দেওয়া হাদিসগুলো থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, আমাদের ইসলাম ধর্মে কালোজিরা খাওয়ার অনেকগুলি হাদিস রয়েছে। সেগুলো ঠিকমত অনুসরণ করে খেলে অনেক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সুতরাং আমাদের প্রত্যেকের উচিত প্রতিদিন কালোজিরা খাওয়া। এতে করে অনেক ধরনের রোগ থেকে খুব সহজেই নিরাময় পাওয়া যায়।

টানা ৭ দিন কালোজিরা খেলে কি হয়

টানা ৭ দিন কালোজিরা খেলে কি হয়? টানা ৭ দিন কালোজিরা খেলে আমাদের শরীরের অনেক ধরনের রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আজমা, অ্যালার্জি এর মত নানা ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়াও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে, ওজন কমাতে ও ডায়াবেটিসের মত রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সুতরাং আমাদের প্রত্যেকের উচিত দৈনিক জীবনের খাদ্য তালিকায় কালোজিরা অন্তর্ভুক্ত করা।

মধু ও কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা

প্রাচীনকাল থেকে সকল রোগের মহা ওষুধ বলা হয় মধু ও কালোজিরাকে। মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের ঔষধ হচ্ছে মধু ও কালোজিরা। মধু ও কালোজিরায় রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি মাইক্রোবায়াল। যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলে। চলুন তাই আর দেরি না করে কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়ার উপকারিতা এর পাশাপাশি মধু ও কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা জেনে নেয়।

  • স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করে।
  • মাথা ব্যাথা নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
  • ত্বকের যত্নে মধু ও কালোজিরার ব্যবহার অনেক।
  • ঠান্ডা কাশি ও চর্বি দূর করতে অনেক কার্যকরী।
  • বাতের ব্যথা দূরীকরণে মধু ও কালোজিরা ব্যবহার অনেক।
  • হার্টের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে সহায়তা করে।
  • ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ রাখতে কার্যকরী।
  • পাইলস সমস্যার সমাধান করে।
  • হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট রোগ সারাতে সহায়তা করে।
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
  • যৌন সমস্যা সমাধান করে।
  • আমাশয়ের নিরাময়ের সহায়তা করে।
  • শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
  • বুকের দুধ বৃদ্ধি করতে
  • অনিয়মিত মাসিক সমস্যা সমাধান করে।

শেষ কথা

আশা করছি আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে আপনি কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত একটা ধারণা লাভ করতে বলেছেন। যদি আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ে বুঝতে কোথাও কোন সমস্যা হয় তাহলে আর্টিকেলটি পুনরায় মনোযোগের সাথে পড়ুন।
আমাদের এই আর্টিকেলটি কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেন। যদি আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনি আপনার বন্ধু-বান্ধব ওর কাছে মানুষদের সাথে শেয়ার করুন, ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

চাঁপাই আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url