চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায়
বর্তমান সময়ের চুলকানি একটি মারাত্মক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। চুলকানি সমস্যায়
জর্জরিত হয় নি এমন মানুষ পাওয়া বেশ জটিল। বিভিন্ন কারনে মানুষের শরীরে চুলকানির
মত মারাত্মক ব্যাধি দেখা দেয় এবং সেগুলো থেকে মুক্তি পেতে বিভিন্ন উপায় অবলম্বন
করে।
প্রতিনিয়ত মানুষ এই মারাত্মক ব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে নানান উপায় খুঁজে। কিন্তু
সঠিক তথ্য না জানার কারণে সম্ভব হয়ে ওঠেনা। তাই আপনাদের সুবিধার্থে আজকের এই
আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করতে চলেছি, চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায়।
পেজ সূচিপত্রঃ চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায়
ভূমিকা
চুলকানি খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। তবে এটি সাধারণ থেকে মারাত্মক লেভেলের সমস্যাই
জর্জরিত হতে পারে। আবার অনেক সময় এটি অস্বস্তির কারণও হয়ে দাঁড়ায়। বিভিন্ন
কারনে দেখা দিতে পারে। তাই আগে থেকেই সচেতন থাকলে চুলকানি প্রতিরোধ করা যায়।
অনেকে এই সমস্যার সমাধান থেকে বাজার থেকে চুলকানির সমস্যার সমাধানের জন্য বিভিন্ন
ধরনের মলম বা ক্রিম ব্যবহার করা হয়।
আরো পড়ুনঃ দাদ চুলকানি দূর করার ক্রিম
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করতে চলেছি, চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায়,
চুলকানি দূর করার ঔষধের নাম, চুলকানির ঔষধের নাম স্কয়ার, পায়ে চুলকানি দূর করার
উপায়, শীতে চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায় ও দাদ চুলকানি দূর করার ঘরোয়া
সম্পর্কে উপায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায়
বর্তমান সময়ে চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায় হচ্ছে অনেক কার্যকারী। অনেক সময়
বাজার থেকে ক্রিম, মলম ইত্যাদি ত্বকে লাগিয়ে চুলকানি দূর করার উপায় অবলম্বন করা
হচ্ছে। কিন্তু এগুলো ব্যবহারের ফলে দেখা যাচ্ছে উপকারের দিকে ক্ষতিকর দিকগুলোই
বেশি হচ্ছে। তো চলুন তাই আর দেরি না করে জেনে নেই চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায়।
লেবুঃ লেবুর রসে রয়েছে এন্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান যা চুলকানি দূর করতে
অনেক সাহায্য করে। তাছাড়া লেবু সহজলভ্য হওয়ায় খুব সহজে পাওয়া যায়। ত্বকের
যেসব জায়গায় চুলকানি হয় সেগুলোতে লেবুর রস লাগিয়ে শুকিয়ে নিন। খেয়াল করলে
দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই চুলকানি অনেকটাই কমে যাচ্ছে।
তুলসী পাতাঃ তুলসী পাতা ও মধু ঠান্ডা দূর করতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
পালন করে। এছাড়াও তুলসী পাতা চুলকানি দূর করতে অনেক কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এর
জন্য প্রথমত ১০ থেকে ১৫ টি তুলসী পাতা নিয়ে তাপ দিয়ে নির্যাস বের করে নিন। এরপর
একটি পরিষ্কার তা শুকনো কাপড় নিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে নিন।
পুদিনা পাতাঃ পুদিনা পাতা চুলকানির প্রতিরোধে অত্যন্ত উপকারী। পরিমাণ মতো
পানি নিয়ে তাতে কিছু পরিমাণ পুদিনা পাতা দিয়ে তাপ দিয়ে নির্যাস বের করে নিন।
এরপর চুলকানির স্থানে নির্যাসিত পানি লাগিয়ে নিন। দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই
চুলকানি কমে গেছে।
ব্রেকিং সোডাঃ ব্রেকিং সোডা ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখতে ও চুলকানি
প্রতিরোধে অনেক সহায়ক ভূমিকা রাখে।
আরো পড়ুনঃ বেটনোভেট সি ক্রিম এর উপকারিতা
অ্যালোভেরাঃ চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায় এ অ্যালোভেরা অনেক কার্যকরী
ভূমিকা রাখে। ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতেও অ্যালোভেরার ব্যবহার অনেক। চুলকানি
দূর করতে অ্যালোভেরা পাতা থেকে রস বের করে নিন। এরপর অ্যালোভেরার রস চুলকানি
আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে নিন।
তেলঃ তেল চুলকানি দূর করতে অনেক সহায়ক। পুদিনা পাতার তেল আমাদের শরীরে
একটি শীতল প্রভাব ফেলে এবং ব্যথা ও চুলকানি দূর করতে সাহায্য করে।
স্ট্রেস হ্রাসঃ স্ট্রেস চুলকানি বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই চুলকানি
প্রতিরোধে অতিরিক্ত চাপ কমাতে হবে।
চুলকানি দূর করার ঔষধের নাম
বর্তমানে বাজারে চুলকানি দূর করার অনেক ঔষধ রয়েছে। তবে চুলকানি দূর করার কোন
ঔষধটা আপনার জন্য কার্যকরী হবে সেটা নির্ভর করে আপনার চুলকানির উপর। যদি আপনি
চুলকানির সঠিক কারণ এবং কি কারণে চুলকানি হচ্ছে সেগুলো নির্ণয় করতে পারেন তাহলেই
চুলকানির ঔষধ খুব সহজেই নির্ণয় করতে পারবেন। চলুন জেনে নেয় চুলকানি দূর করার
ঘরোয়া উপায় এর সাথে চুলকানি দূর করার ঔষধের নাম।
Cetirizine
এটি একটি এন্টিহিস্টামিন ঔষধ যা চুলকানি দূর করতে সহায়তা করে। এটি ট্যাবলেট এবং
সিরাপ আকারে পাওয়া যায় যা চুলকানির জন্য ব্যবহৃত হয়।
Chlorpheniramine
আরও একটি এন্টিহিস্টামিন যায় এলার্জি বা পোকামাকড়ের কামড় থেকে চুলকানি কমাতে
ব্যবহার করা হয়।
Hydrocortisone Cream
এটি একটি স্টেরয়েড ক্রিম যা চুলকানি বা ত্বকে এলার্জির জ্বালাপোড়া কমাতে সহায়তা
করে।
Calamine Lotion
ক্যালামাইন লোশন চুলকানি বা ত্বকের এলার্জি জনিত সমস্যা থেকে সমাধানে সহায়তা
করে।
Ketoconazole
ফাঙ্গাল ইনফেকশনের কারণে চুলকানি হলে কেটোকোনাজল ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে।
এটি চুলকানি সমস্যা এবং সংক্রমিত ক্ষতস্থান দূর করতে সহায়তা করে।
চুলকানির ঔষধের নাম স্কয়ার
চুলকানি একটি সাধারণ সমস্যা। কিন্তু অনেক সময় সাধারণ সমস্যায় অনেকের জীবনে
মারাত্মক প্রভাব ফেলে। । এই সমস্যার সমাধানে অনেকেই ডাক্তারের শরণাপন্ন হন । আবার
অনেকেই বিভিন্ন ধরনের ঔষধ অগ্রিম ব্যবহার করেন।
স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস বাংলাদেশের একটি সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান, যারা বিভিন্ন
ধরনের চিকিৎসা সামগ্রী ও ওষুধ তৈরি করে থাকেন। এগুলো বেশ কার্যকারী ও জনপ্রিয়।
চলুন তাই আর দেরি না করে জেনে নেয় চুলকানির ঔষধের নাম স্কয়ার।
Skinorex Cream
স্কয়ারের এই ক্রিমটি বিভিন্ন ধরনের চুলকানি এবং ত্বকের প্রদাহ কমাতে সহায়ক
ভূমিকা রাখে। এটি ব্যবহারে খুব দ্রুতই আরাম পাওয়া যায়।
আরো পড়ুনঃ জয়তুন ফল খাওয়ার নিয়ম
Crotorix Lotion
এই ক্রিমটি ত্বকের পচরা এবং চুলকানি সমস্যাই ব্যবহার করা হয়। লোশন হিসেবে এটি
ত্বকে খুব সহজেই শোষিত হয়।
Antazole Cream
এই ক্রিমটি ফাঙ্গাস এবং ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্ট চুলকানি সমস্যায় ব্যবহৃত হয়।
এটি ত্বকের চুলকানি থেকে শুরু করে অন্যান্য সমস্যা থাকলেও সমাধান করে।
পায়ে চুলকানি দূর করার উপায়
পায়ের চুলকানি একটি সাধারণ সমস্যা হলেও অনেকের কাছে এটা বিরক্তিকর। নিম্নে
পায়ের চুলকানি দূর করার উপায় গুলো আলোচনা করা হলো।
- চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায় সবচেয়ে কার্যকারী উপায় হচ্ছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। পায়ের চুলকানি দূর করতে নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। যাতে কোন ধরনের সংক্রমণ হতে না পারে।
- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করাবেন। এতে করে ডাক্তার আপনার পায়ের চুলকানির কারণ জেনে চিকিৎসা করাবেন।
- এটি H1-ব্লকিং অ্যান্টিহিস্টামিন যেমন ডিফেনহাইড্রাইমাইন (বেনড্রিল) চুলকানি দূর করতে সহায়তা করে। অ্যান্টিহিস্টামাইনগুলির উপসংকারী এবং অন্যান্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে।
- আপনার যদি অ্যাথলিটের পা থাকে তবে অ্যান্টিফাঙ্গাল স্প্রে বা ক্রিম চুলকানি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
- টপিকাল অ্যান্টি-অ্যালার্জিক ওষুধ, পেট্রোলিয়াম জেলির মত ইমোলিয়েন্ট এবং ষ্টোরাইড ক্রীম ত্বকের চুলকানি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শীতে চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায়
কথায় আছে, বিকৃত করিয়া মুখ, চুলকাইতে বড় সুখ। তবে শীতের দিনে চুলকানি বেশ
মারাত্মক প্রভাব ফেলে। শীতের দিনে সারাদিন সোয়েটারের মধ্যে থাকতে হয়। যার কারণে
ও অনেক সময় চুলকানি সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর জন্য সোয়েটার পড়ার আগে ফুলহাতা
সুতির জামা পড়ে সোয়েটার বলে চুলকানি থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। নিম্নে শীতে
চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায় গুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
নারিকেল তেলঃ বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের তেল ত্বকের জন্য বেশ উপকারী।
শীতে চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায় সবচেয়ে বেশি কার্যকরী ভূমিকা রাখেন নারিকেল
তেল। এর জন্য প্রতিদিন গোসল করার পর নিয়মিত নারিকেল তেল ত্বকে লাগাতে হবে।
ওটমিল এর ব্যবহারঃ ওটমিল স্ক্রুবার হিসাবে হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। তবে
এতে সামান্য পরিমাণ পানি মিশিয়ে ব্যবহার করলে চুলকানি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
আপেল সিডার ভিনেগারঃ গোসলের পানিতে ২ থেকে ৩ কাপ আপেল সিডার ভিনেগার
মিশিয়ে নিন। এই পানিতে ১৫ থেকে ২০ মিনিট বসে থাকুন। এরপর গামছা বা তোয়ালে দিয়ে
সারা গা মুছে নিন। এতে অনেকটা চুলকানি দূর হবে।
আরো পড়ুনঃ আপেল সিডার ভিনেগার
পানি পানঃ শীতকালে কনকনে শীতের কারণে পানি খাওয়ার পরিমাণ টা অনেক কমে
যায়। তাই শীতকালে প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এটি পানির
অভাবজনিত রুক্ষ তাতে চুলকানি সমস্যা থেকে যায়।
গোসল করাঃ নিয়মিত প্রতিদিন গোসল করতে হবে। চুলকানির জনিত সমস্যা থাকলে
সুগন্ধি যুক্ত সাবান ব্যবহার না করাই ভালো।
মশ্চারাইজার ব্যবহার করাঃ গোসলের পরে অবশ্যই ভেজা ত্বকে লাগাতে হবে।
দাদ চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায়
দাদ একটি ছত্রাক সংক্রমণ। যা এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়াতে পারে। এটি
ত্বকের উপরে লাল স্তর এবং গোলাকার ফুসকুড়ি হিসাবে দেখা যায়। যেখানে প্রায়
সবসময়ই জ্বালাপোড়া ও চুলকানি হতে থাকে। এর জন্য সবসময়ই ত্বক
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। চলুন তাই আর দেরি না করে জেনে নেয় দাদ চুলকানি দূর
করার ঘরোয়া উপায়।
রসুনঃ রসুনে অ্যাজওয়াইন নামক একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ফাঙ্গাল এজেন্ট
রয়েছে যা দাদ চুলকানি দূর করতে সহায়তা করে। একটি রসুনের কোয়া খোসা ছাড়িয়ে
ভালোভাবে বেটে নিন। এরপর এটি আপনার আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে রাখুন সারাদিন।
নারিকেল তেলঃ নারিকেল তেল তোকে গভীরভাবে মশ্চারাইজ করে, যার ফলে ত্বকের
শুষ্কতা দূর হয় এবং চুলকানি সমস্যা থেকেও সমাধান পাওয়া যায়।
দেশি ঘিঃ দাদ এবং চুলকানির জন্য দেশী ঘি অত্যন্ত কার্যকারী। এটি আক্রান্ত
স্থানে লাগালে অনেক উপকার পাওয়া যায়।
হলুদঃ হলুদ প্রাকৃতিক এন্টিবায়োটিকের মত কাজ করে। হলুদ যে কোন আঘাত
জ্বালাপোড়া এবং চুলকানির সমস্যা দূর করতে অনেক কার্যকারী। এর জন্য হলুদ ও জল
মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে নিন। আশা করছি ভালো একটা উপকার
পাবেন।
শেষ কথা
আশা করছি আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে আপনি চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায়
সম্পর্কে বিস্তারিত একটা ধারণা লাভ করতে পেরেছেন। যদি আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ে
বুঝতে কোথাও কোন সমস্যা হয় তাহলে আর্টিকেলটি পুনরায় মনোযোগের সহিত পড়ুন।
আরো পড়ুনঃ মধু ও কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা
আমাদের এই আর্টিকেলটি চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে কোন প্রশ্ন বা
মতামত থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাবেন। আমাদের এই আর্টিকেলটি
পড়ার মাধ্যমে যদি আপনি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনি আপনার বন্ধু-বান্ধব,
কাছের মানুষ ও পারা প্রতিবেশীদের সাথে শেয়ার করুন, ধন্যবাদ।
চাঁপাই আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url