চুইঝাল গাছ চেনার উপায় - চুই ঝাল খাওয়ার নিয়ম

চুইঝাল হচ্ছে এক ধরনের লতা জাতীয় গাছ। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর জনপ্রিয়তা অনেক বিশেষ করে দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, বার্মা ও সিঙ্গাপুর চুইঝালের জন্য উপযোগী। চুই ঝাল হচ্ছে মূলত এক ধরনের মসলা।
চুইঝাল গাছ চেনার উপায় - চুই ঝাল খাওয়ার নিয়ম
এটি শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ায় না, এর রয়েছে অসংখ্য গুনাগুন। তাই আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করতে চলেছি চুইঝাল গাছ চেনার উপায় - চুই ঝাল খাওয়ার নিয়ম।
পেজ সূচিপত্রঃ  চুইঝাল গাছ চেনার উপায় - চুই ঝাল খাওয়ার নিয়ম

ভূমিকা

বর্তমানে চুই ঝাল বেশ পরিচিত। এটি মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এর অনেক স্বাস্থ্য উপকারী গুনাগুন রয়েছে। চুই ঝাল বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও হোটেলে পাওয়া যায়। চুই ঝাল ভেষজ উপাদানে ভরপুর। প্রাচীনকাল থেকেই এটি বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করতে অনেক সহায়ক ভূমিকা রাখে।
তাই আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করতে চলেছি চুইঝাল গাছ চেনার উপায় - চুই ঝাল খাওয়ার নিয়ম, চুই ঝাল চারা কোথায় পাওয়া যায়, চুই ঝাল খাওয়ার নিয়ম, চুই ঝাল এর উপকারিতা, চুইঝাল সংরক্ষণের নিয়ম ও চুই ঝাল কোথায় পাওয়া যায় ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

চুইঝাল গাছ চেনার উপায় - চুই ঝাল খাওয়ার নিয়ম

চুইঝালের নাম আমরা হয়তো অনেকেই কম বেশি শুনেছি। কিন্তু খাওয়া হয়নি। এর অনেক গুনাগুন রয়েছে। এটি যেমন আমাদের খাবারের স্বাদকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে তোলে ঠিক তেমনি ঝাল আমাদের শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও রোগ সারাতে অনেক কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

চুইঝাল গাছ চেনার উপায় দেখতে অনেকটা পান গাছের পাতার মতো। লতা জাতীয় একটি গাছ। এর কান্ড, পাতা ও গাছ সবকিছুই মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। চুই ঝালের অনেকগুলো কান্ড রয়েছে। যেগুলো ছোট ছোট করে কেটে মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় মাংসের সাথে।

চুই ঝালের গাছ সাধারণত দুই রকমের হয়ে থাকে। একটি বেশ মোটা ২০ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার, অন্যটি ২.৫ থেকে ৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। চুই ঝালের গাছটি ১০ থেকে ১৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এটি দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটিতে ভালো জন্মে।

চুই ঝাল চারা কোথায় পাওয়া যায়

চুইঝাল গাছ চেনার উপায় - চুই ঝাল খাওয়ার নিয়ম জানার পাশাপাশি চুই ঝাল চারা কোথায় পাওয়া যায় ইত্যাদি চলুন জেনে নেয়। চুইঝাল বাংলাদেশের, সিলেট, রংপুর, খুলনা, যশোর ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে বেশ জনপ্রিয়। চুইঝাল ছাড়া আপনি বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করতে পারেন। লোকাল বাজার থেকে চুইঝাল পাওয়াটা একটু কষ্টসাধ্য।
তবে আপনি বাংলাদেশের এমন অনেক ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজ রয়েছে যেখান থেকে অর্ডার করে নিতে পারেন। চুই ঝাল বিভিন্ন দামের হয়ে থাকে।যেগুলো একটু ভালো ও মোটা সাইজের সেগুলোর দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে যেগুলো একটু চিকন সাইজের সেগুলো ৪ থেকে ৫ শত টাকা হয়।

চুই ঝাল খাওয়ার নিয়ম

চুইঝাল হচ্ছে এক ধরনের মসলা। এটি খাবারের স্বাদকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে তোলে। চুই ঝাল ছাড়া আপনি বিভিন্ন সবজির সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন। চলুন তাই আর দেরি না করে জেনে নেয় চুই ঝাল খাওয়ার নিয়ম।

মাংস রান্নায়ঃ বর্তমান সময়ে চুই ঝাল সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় মাংস রান্নায়। এটি। মাংসকে আরো সুস্বাদু করে তোলে চুই ঝাল বিশেষ করে গরু, মুরগির মাংসে ব্যবহার করা হয়।

সুপে ব্যবহার করাঃ চুইঝালের সুপ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় অনেক কার্যকরী। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় চুইঝালে সুপ রাখতে পারলে বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
মসলার সাথে ব্যবহারঃ চুই ঝাল বাজারে শুকনো অবস্থায় পাওয়া যায়। এটি বিভিন্ন সবজির সাথে মিশিয়ে খাবারে একটা ঝাঁঝালো স্বাদ এনে দেয়।

ভেষজ ওষুধ হিসেবেঃ প্রাচীন কাল থেকেই চুই ঝাল বিভিন্ন ভেষজ ঔষধ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।এটি আমাদের শরীরের বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটি সর্দি কাশি, গলা ব্যথা ও পেটের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করতে ব্যবহার করা হয়।

চুই ঝাল এর উপকারিতা

চুই ঝাল অনেক ভেষজ উপাদানে ভরপুর। এতে রয়েছে বিভিন্ন এন্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ যা আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। চুই ঝাল বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি এর বিভিন্ন উপকারিতা রয়েছে। নিম্নে চুই ঝাল এর উপকারিতা গুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

  • চুই ঝাল হজাম শক্তি বাড়ি তুলে। এটি পেটের কোষ্ঠকাঠিন্য বদহজম এবং গ্যাস সমস্যা দূর করতে দারুন কার্যকরী।
  • চুই ঝালে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এটি আমাদের শরীরের ক্ষতিকর রশি ও বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করে। আমাদের শরীরের বয়সের বার্ধক্য ও ত্বককে উজ্জ্বল করতেও ভূমিকা রাখে।
  • চুইঝালে থাকা ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে অনেক কার্যকরী।
  • বাত ও আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় প্রাচীনকাল থেকেই ভেষজ ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
  • চুই ঝাল রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক ভূমিকা রাখে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও সহায়তা করে।
  • চুল ও ত্বকের যত্নে চুই ঝাল এর ব্যবহার অনেক। এটি আমাদের চুলকে গোড়া থেকে শক্ত মজবুত ও ঘন কালো উজ্জ্বল করে তোলে।
  • ক্যান্সার প্রতিরোধেও চুই ঝাল অনেক সহায়তা করে।
  • চুইঝালে থাকা বিভিন্ন উপাদান রক্ত সঞ্চালন করতে পারে।
  • চুই ঝাল হজম শক্তি উন্নত করে।
  • কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে চুই ঝাল সহায়তা করে।

চুইঝাল সংরক্ষণের নিয়ম

চুইঝাল সংরক্ষণে বিভিন্ন নিয়মাবলী অবলম্বন করা যায়। এটি সংরক্ষণের ফলে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। তাই চুই ঝাল সংরক্ষণ বেশ ভালোভাবে সংরক্ষণ করতে পারলে বেশ কয়েক মাস পর্যন্ত ব্যবহার যোগ্য থাকে। আসুন জেনে নেই চুইঝাল সংরক্ষণের নিয়ম।

শুকিয়ে সংরক্ষণঃ চুই ঝাল শুকিয়ে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। চুইঝালের শিকড় ও কান্ড রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করলে বেশ লম্বা একটা সময় ব্যবহার উপযোগী থাকে।

ফ্রিজে সংরক্ষণঃ চুইঝাল সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজ একটি ভালো পন্থা। এতে করে চুই ঝাল বেশ কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত ঠিকঠাক থাকে।
পাউডার তৈরি করে সংরক্ষণঃ চুই ঝাল রোদে শুকিয়ে পাউডার তৈরি করে বেশ লম্বা একটা সময় সংরক্ষণ করা যায়। চুই ঝালের পাউডার খুব সহজেই রান্নায় ব্যবহার করা যায়।

তেলের মধ্যে সংরক্ষণঃ চুই ঝাল তেলের মধ্যে সংরক্ষণ করলে এটি বেশ দারুন একটা স্বাদ দেয়। মাংস বা মাছ রান্নায় এই তেল ব্যবহার করতে পারেন।

ফ্রিজারের আইস কিউব ট্রেতে সংরক্ষণঃ চুই ঝাল ফ্রিজের আইস কিউব ট্রেতে সংরক্ষণ করতে পারেন। এর জন্য চুই ঝাল প্রথমে ছোট ছোট করে কেটে আইস কিউ ট্রেতে রাখুন। এরপর এর উপর সামান্য পানি দিয়ে ট্রেটি ফ্রিজে রাখুন।

চুই ঝাল কোথায় পাওয়া যায়

চুইঝাল বাংলাদেশের খুলনা, যশোর, নড়াইল ও সাতক্ষীরা জেলায় খুব সহজেই পেয়ে যাবেন।এছাড়াও আপনি এটি বিভিন্ন অনলাইন থেকেও ক্রয় করতে পারেন। যেহেতু এটা মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সেহেতু বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে এর ব্যবহার করা হয়।

তাই আপনি চাইলে রেস্টুরেন্ট থেকেও চুইঝাল অর্ডার করে নিতে পারেন। চুইঝাল একটি মসলা শুধুমাত্র নয় এটি অনেক কার্যকারিতা ও গুণাবলী রয়েছে। চুই ঝাল বিভিন্ন দামের হয়ে থাকে। আপনি যদি একটু ভালো মনের দিতে চান সেক্ষেত্রে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা কেজি প্রতি পড়তে পারে। এবং যদি একটু চিকন সাইজের গোলা নেই সেক্ষেত্রে কেজি প্রতি ৪০০ টাকায় পেয়ে যাবেন।

শেষ কথা

আশা করছি আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে আপনি চুইঝাল গাছ চেনার উপায় - চুই ঝাল খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ে বুঝতে কোথাও কোন সমস্যা হলে আর্টিকেলটি পুনরায় মনোযোগের সহিত পড়ুন।
চুইঝাল গাছ চেনার উপায় - চুই ঝাল খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাবেন। যদি আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে আপনি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনি আপনার বন্ধু-বান্ধব, কাছের মানুষ ও পাড়া-প্রতিবেশীদের সাথে শেয়ার করুন, ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

চাঁপাই আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url