আলু চাষের উপযুক্ত সময় - আলু চাষে কীটনাশক

আলু এর ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে ''potato''। বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থকারী ফসল হচ্ছে আলু। ধান, গম, ভুট্টা এর পরেই রয়েছে আলুর স্থান। বাংলাদেশের প্রায় সব জেলাতেই কমবেশি আলু এর চাষ হয়ে থাকে। আলু বাংলাদেশের অন্যতম একটা গুরুত্বপূর্ণ ফসল। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ আলুর চাষ হয়।
আলু চাষের উপযুক্ত সময় - আলু চাষে কীটনাশক
আলু আমাদের দেশের চাহিদা মিটানোর পাশাপাশি বাইরের দেশের রপ্তানি করা হয়। এর ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আলো অনেক কার্যকারী ভূমিকা রাখে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করে। তাই আজকের এই আর্টিকেলে আলু চাষের উপযুক্ত সময় - আলু চাষে কীটনাশক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
পেজ সূচিপত্রঃ আলু চাষের উপযুক্ত সময় - আলু চাষে কীটনাশক

ভূমিকা

আলু বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফসল। ধান ও গমের পরেই আলুর স্থান। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় আলুর ব্যাপক চাষ করা হয়। আলু সবজি হিসেবে অত্যন্ত সুস্বাদু। যেগুলো খাবার কে মুখরোচক করতে আলু কার্যকারী ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশে শীতকালে আলু চাষের প্রবণতা দেখা দেয়। আলু চাষ অধিক উৎপাদনশীল হওয়ায় কৃষকদের মাঝে এর জনপ্রিয়তা অনেক।
তাই আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করতে চলেছি আলু চাষের উপযুক্ত সময় - আলু চাষে কীটনাশক, আলু চাষের উপযুক্ত সময়, আলু চাষে সার প্রয়োগ, আলু চাষের পদ্ধতি, আলু চাষের জমি তৈরি ও আলুর জাত পরিচিতি ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

আলু চাষের উপযুক্ত সময় - আলু চাষে কীটনাশক

বর্তমান বাজারে আলু এর প্রচুর পরিমাণে চাহিদা রয়েছে। আলু সাধারণত আমরা সবজি হিসেবে বিভিন্ন সবজি এর সাথে ব্যবহার করি। আলু আমাদের যেকোন খাবারকে আরো মজাদার করে তুলে।পৃথিবীর প্রায়ই ৪০টি দেশে অন্যতম প্রধান খাদ্য হচ্ছে আলু। সুতরাং বুঝতেই পারছেন পৃথিবীতে কি পরিমান আলু এর চাহিদা রয়েছে।

আপনি যদি আলু চাষ করে একজন সফল উদ্যোক্তা হতে চান সেক্ষেত্রে আলু চাষের উপযুক্ত সময় - আলু চাষে কীটনাশক সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নিয়ে আলু চাষ শুরু করতে হবে। কেননা তা না হলে আপনি আলু এর উৎপাদন ঠিকমতো করতে পারবেন না। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে প্রায় ১১ টন আলু প্রতি হেক্টরে উৎপাদিত হচ্ছে।

তবে গবেষণায় বলা হচ্ছে আলুর উৎপাদন প্রায় ২০ টন পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। আলু একটি উচ্চ ফলনশীল ফসল সুতরাং এটি আমাদের খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে অনেকটা সহায়ক ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশের কৃষক প্রতিবছর আলু রপ্তানি করে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। অনেকেই রয়েছেন যারা বাণিজ্যিকভাবে আলু চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হচ্ছে।

স্থান ও জায়গা ভেদে আলু প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত হয়। বুঝতেই পারছি না কি পরিমাণ আলু এর চাহিদা রয়েছে। সুতরাং আপনি যদি আলু চাষ করে আপনার কর্মসংস্থান বা অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হতে চান সেক্ষেত্রে অবশ্যই আলু চাষের উপযুক্ত সময় - আলু চাষে কীটনাশক গুলো সম্পর্কে ধারণা নিয়ে আলু চাষ করতে হবে।

আলু চাষের উপযুক্ত সময়

ধান, গম ও ভুট্টা এর মতই একটি উৎপাদনশীল ফসল হচ্ছে আলু। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে এর দামও রয়েছে। বাংলাদেশের দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া, রাজশাহী ও পঞ্চগড় ইত্যাদি এলাকায় প্রচুর পরিমাণে হাল চাষ করা হয়।
তাই অনেকেই আলু চাষ করতে করলেও আলু চাষের উপযুক্ত সময় - আলু চাষে কীটনাশক না জানার কারণে অধিক পরিমাণ আলু উৎপাদন করতে পারেনা। তাই কৃষক ভাইদের সুবিধার্থে আমি আলোচনা করতে চলেছি আলু চাষের উপযুক্ত সময়। বাংলাদেশে অক্টোবর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আলু রোপন করা হয়।

আলু রোপনের প্রায় ৬০ দিন এরপরেই চাষিরা আলু উত্তোলন করতে পারে। প্রায় প্রতি বিঘায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। প্রতি বিঘায় আলু এর বীজ প্রায় ১০ মন মত লাগে বিঘা প্রতি ৫০ থেকে ৬০ মন আলু পাওয়া যায়। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর পরামর্শ নিয়ে আলু চাষ করলে প্রচুর পরিমাণে আলুর উৎপাদন সম্ভব।

আলু চাষে সার প্রয়োগ

আলু চাষের উপযুক্ত সময় - আলু চাষে কীটনাশক জানার পাশাপাশি আলু চাষে সার প্রয়োগ ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা থাকতে হবে। আলু চাষে সার প্রয়োগ বিষয়টি জানা অতীব জরুরী। কেননা আপনি যদি সঠিক পদ্ধতি ও সঠিক পরিমাণে সার প্রয়োগ না করেন তবে ভালো ফলন পাবেন না। আলু চাষে সাধারণত দুইটি বা তিনটি ধাপে সার প্রয়োগ করা হয়।

প্রথমত আলুর রোপনের আগে জমিতে সার প্রয়োগ করতে হয় বেশ কয়েকদিন আগে যাতে সারগুলো মাটির সাথে মিশে যাই। এরপর আলু রোপণ করতে হয়। তারপর আলু রোপনের ২০ থেকে ২৫ দিনের সময় পুনরায় সার দিতে হয়। যারা বাণিজ্যিকভাবে আলুর চাষ করতে চান তাদের জন্য রোপনের আগে এবং চাষের সময় কি পরিমান সার দিতে হবে তা নিম্নে তুলে ধরা হলো। আলু চাষে প্রতি বিঘায় বা ৩৩ শতকে কি পরিমান সার দিতে হবে সেগুলো নিচে দেওয়া হলঃ


  • ইউরিয়া ২৫ কেজি
  • পটাশ ৭৫ কেজি
  • টি এস পি ৭৫ কেজি
  • জিপসাম ৩০ কেজি
  • দস্তা ১ কেজি
  • বোরন ১ কেজি
  • ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ৮ থেকে ১০ কেজি

আলু চাষের পদ্ধতি

আলু চাষের জন্য বেশ কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করে আলু চাষ করতে হয়। তাহলেই কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যায়। আলু চাষের জন্য প্রথমত আপনাকে ভালো মানের বীজ সংগ্রহ করতে হবে। এর জন্য আপনি বিশ্বস্ত কোন অনলাইন মার্কেট বা ওয়েবসাইট থেকে নিতে পারেন।
এছাড়াও আরো একটি বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে নিলে ভালো হয়। এরপর আলু চাষের জন্য উপযুক্ত মাটি নির্বাচন করতে হবে। যেকোনো মাটিতে আলো চাষ করা যায়। তবে আলু চাষের জন্য উত্তম মাটি হচ্ছে বেলে দোআঁশ। এমন মাটির নির্বাচন করুন যেন সেখানে সেচ ও নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা থাকে।

রৌদ্র উজ্জ্বল স্থান নির্বাচন করতে হবে। এরপর মাটিকে ঝুরঝুরে করে প্রস্তুত করতে হবে। আলু রোপনের বেশ কিছুদিন আগে মাটিতে অবশ্যই সার প্রয়োগ করতে হবে। এরপর আলু রোপন করতে হবে। আলু রোপনের পর সার ও বিভিন্ন রোগ বালাই থেকে রক্ষা পেতে নিয়মিত কীটনাশক প্রদান করতে হবে।

আলু চাষের জমি তৈরি

আলু চাষের জমি তৈরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। আলুর চাষে জমি তৈরির জন্য সাধারণত সেপ্টেম্বর মাস থেকেই কাজ শুরু করতে হয়। জমির প্রকৃতি ও আকার ভেদে ৪ থেকে ৫ টি চাষ দিয়ে জমির মাটি ওলটপালট করে নিতে হবে। এক্ষেত্র জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও জমি তৈরি এর সময় জৈব সার এর প্রয়োগ করতে পারলে অনেক ভালো।
আলু চাষের জন্য জমির গভীরতা অনেক জরুরী। তাই যতটা সম্ভব নিজ থেকে চাষ দিতে হবে। গ্রামীন এলাকার অধিকাংশ কৃষক নাঙ্গল ও কোদাল দিয়ে জমির গভীর ভাবে চাষ করেন। শুধু জমির গভীরতা করলেই নয় মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সার প্রয়োগ এবং উপযুক্ত মাটি নির্বাচন করতে হবে। আলু চাষের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত মাটি হচ্ছে বেলে দোআঁশ যা নির্বাচন করতে পারলে অত্যন্ত জরুরী।

আলুর জাত পরিচিতি

আলু চাষের উপযুক্ত সময় - আলু চাষে কীটনাশক এর সাথে আলুর জাত নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণায় ইন্সটিটিউ ট এখনপর্যন্ত আলুর মোট ৮৩ টি জাত আবিষ্কার করেছেন। প্রতিবছর বাংলাদেশ প্রচুর পরিমাণ আলু দেশের চাহিদা পূরণ করে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চলুন তাই আর দেরি না করে জেনে নেই আলুর জাত পরিচিতি।

  • বারি আলু-৭৪
  • বারি আলু-৪৬
  • বারি আলু-৬২
  • বারি আলু-৭২ বা ৭৩
  • বারি আলু-৪
  • বারি টিপিক্রস-১
  • বারি আলু-১১
  • বারি আলু-১২
  • বারি আলু-১৩
  • বারি আলু-১৫
  • বারি আলু-১৭
  • বারি আলু-১৮
  • বারি আলু-১৯
  • বারি আলু-২০

আলুর দেশি জাত

দেশি জাতের আলুগুলো সাধারণত আকারে ছোট ও ওজনে ৫ থেকে ৫০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে।দেশে জাতের আলু ফলন কম হলেও এটি দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করা যায়। দেশে জাতের আলু অন্যান্য জাতের তুলনায় অনেক সুস্বাদু হয়।

  • আউশা,
  • চল্লিশা,
  • দোহাজারী লাল
  • ফেইন্তাশীল
  • হাসরাই
  • লাল পাকরী
  • লালশীল
  • পাটনাই
  • সাদা গুটি শীল বিলাতী ও সূর্যমূখী।

শেষ কথা

আশা করছি আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে আপনি আলু চাষের উপযুক্ত সময় - আলু চাষে কীটনাশক একটি স্বচ্ছ ধারণা লাভ করতে পেরেছেন। আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ে বুঝতে কোথাও কোন সমস্যা হলে আর্টিকেলটি পুনরায় মনোযোগের সহিত পড়ুন।
যদি আপনি আলু চাষের উপযুক্ত সময় - আলু চাষে কীটনাশক ইত্যাদি সম্পর্কে আরও জানতে চান তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাবেন। যদি আপনি আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ে উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনি আপনার বন্ধুবান্ধব, কাছের মানুষ ও পাড়া প্রতিবেশীদের সাথে শেয়ার করুন, ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

চাঁপাই আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url