ড্রোন ক্যামেরা ক্রয়ের পূর্বে যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে
যদি আপনি প্রথমবারের মতো একটি ড্রোন ক্যামেরা কিনতে চান তাহলে ড্রোন ক্যামেরা
ক্রয়ের পূর্বে যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে তা জানা আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরী।
ড্রোনের ক্যামেরার রেজুলেশন, ফ্লাইট টাইম, এবং কন্ট্রোল রেঞ্জ আপনার প্রয়োজনে
কতটা উপযুক্ত তা অবশ্যই ঠিকঠাকভাবে নির্বাচন করতে হবে।
এক্ষেত্রে যদি আপনি ড্রোন ক্যামেরা নির্বাচন করতে ভুল করেন তাহলে দেখা যাবে আপনার
টাকাটাই নষ্ট হবে। সুতরাং যদি আপনি একটি সঠিক ড্রোন ক্যামেরা ক্রয় করতে চান
তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পেজ সূচিপত্রঃ ড্রোন ক্যামেরা ক্রয়ের পূর্বে যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে
হবে
ভূমিকা
সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তির উন্নয়ন দিন দিন বেড়েই চলেছে। ঠিক তারই একটি উদাহরণ
হচ্ছে ড্রোন ক্যামেরা। একটা সময় আমরা আমাদের হাতে থাকে স্মার্টফোনটি দিয়ে বা
ডিজিটাল ক্যামেরা দিয়ে ছবি বা ভিডিও ধারণ করতাম। কিন্তু বর্তমানে আমরা ড্রোন
ক্যামেরা দিয়ে যেকোনো ধরনের ভিডিও বা ফটো যেকোন এঙ্গেল থেকে খুব সহজেই ধারণ করতে
পারি।
আরো পড়ুনঃ গ্রাফিক্স ডিজাইন এর কাজ গুলো কি কি
ড্রোন ক্যামেরা আমাদের জীবনকে অনেক সহজ ও সম্ভাবনাময় করে তুলেছে। বিশেষ করে যারা
ব্লগার রয়েছেন তাদের জন্য ড্রোন ক্যামেরা অনেক জরুরী ভালো ভিডিও ধারণের জন্য।
সুতরাং আপনাদের সুবিধার্থে আজকের এই আর্টিকেলে আমি আলোচনা করতে চলেছি ড্রোন
ক্যামেরা ক্রয়ের পূর্বে যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে
বিভিন্ন ড্রোন ক্যামেরার বৈশিষ্ট্য যা আপনি কিনার আগে খেয়াল রাখবেন, ড্রোন
ক্যামেরার কাজ, ফ্লাইট টাইম ও ব্যাটারি লাইফ কেন বিবেচনা করবেন, ড্রোন ক্যামেরার
রেজুলেশন কত গুরুত্বপূর্ণ, ড্রোনের কন্ট্রোল রেঞ্জ কতদূর হতে পারে, ড্রোনের
ক্যামেরা স্ট্যাবিলাইজেশন প্রযুক্তি, ড্রোনের ক্যামেরা স্ট্যাবিলাইজেশন প্রযুক্তি
ও ড্রোনের ওজন ও পোর্টেবিলিটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত
আলোচনা করেছি।
ড্রোন ক্যামেরা ক্রয়ের পূর্বে যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে
ড্রোন ক্যামেরা ক্রয় করার পূর্বে কিছু বিষয়ে মাথায় রাখা খুবই জরুরী। ড্রোন
ক্যামেরা ক্রয়ের পূর্বে যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে সেগুলো হচ্ছে রেজুলেশন,
ফ্লাইট টাইম, ব্যাটারি লাইফ, কন্ট্রোল রেঞ্জ এবং ওজন। এগুলো আপনাদের একটি সঠিক
ড্রোন ক্যামেরা ক্রয় করতে অনেক সহায়তা করবে। আপনার প্রয়োজন অনুসারে একটি সঠিক
ড্রোন ক্যামেরা ক্রয় করতে হলে এইসব বিষয়ের উপরেই আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এছাড়াও ড্রোন ক্যামেরা ক্রয়ের পূর্বে যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে সেটা হচ্ছে
ফ্লাইট টাইম ও ব্যাটারি লাইফ। এটি আপনাকে লম্বা সময় ধরে ব্যবহার করতে সহায়তা
করবে। এসব বিষয়গুলো আপনার প্রয়োজন সাথে মিলিয়ে নিতে হবে। ড্রোনের ওজন কম হলে
এটি গ্রহণযোগ্য সুবিধা হয়। এছাড়াও ড্রোন ক্যামেরা ক্রয় করার পূর্বে আপনার
প্রয়োজনীয় ফিচারস গুলো যেমনঃ রেজুলেশন ও ক্যামেরার কোয়ালিটি আপনাকে ভালো মানের
ছবি ও ভিডিও ধারণে সহায়তা করবেন।
ড্রোন ক্যামেরার বিভিন্ন মডেল
DJI Mavic Air 2
DJI Mavic Air 2 হলো একটি জনপ্রিয়ন ড্রোন ক্যামেরা যা ফটোগ্রাফি ও ভিডিও ধারণ
করার জন্য দারুন। এতে ৪৮ মেগাপিক্সেল পর্যন্ত ছবি তোলার ক্ষমতা রাখেন এবং 4K
ভিডিও 60fps-এ রেকর্ড করতে সক্ষম। এটি ছবি তোলার পাশাপাশি HDR ভিডিওও ধারণ করতে
সক্ষম। এতে রয়েছে আপগ্রেটেড ইমেজ সেন্সর, উন্নত ফ্লাইট টাইম প্রায় ৩৪ মিনিট এবং
নতুন অবজেক্ট এভয়েডেন্স প্রযুক্তি যা অটো পাইলট ফিচারের সাথে একত্রে কাজ করে। DJI
Mavic Air 2 ড্রোন ক্যামেরাটি এর উন্নত বৈশিষ্ট্য ও দক্ষতার কারণে পেশাদার
ফটোগ্রাফার ও ভিডিওগ্রাফারদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
DJI Phantom 4 Pro V2.0
DJI Phantom 4 Pro V2.0 হলো একটি উচ্চ-পারফরম্যান্স ড্রোন যা প্রফেশনাল
ভিডিওগ্রাফি ও ফটোগ্রাফি করার জন্য অনেক সহায়ক। এতে ২০ মেগাপিক্সেল এবং 4K ভিডিও
60fps-এ ধারণ করতে সক্ষম। এটি উন্নত ফ্লাইট সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত করে উন্নত
অবজেক্ট এভয়িডেন্স, ডুয়াল ব্যান্ড গপস এবং উন্নত ইমেজ ট্রান্সমিশন প্রযুক্তি। এর
সাথে ৩০ মিনিড পর্যন্ত ফ্লাইট টাইম প্রদান করে।
Autel Robotics EVO Lite+
Autel Robotics EVO Lite+ হলো একটি প্রিমিয়াম ড্রোন যা প্রফেশনাল ফটোগ্রাফি ও
ভিডিওগ্রাফির জন্য উন্নত ফিচারস প্রদান করে। এতে ৫০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা এবং 6K
ভিডিও রেকর্ডিং ক্ষমতা রয়েছে। এছাড়াও এর ফ্লাইট টাইম ৪০ মিনিট এবং উন্নত ফ্লাইট
মুড এবং সেলফি সমর্থন করে। ড্রোনটির ডেডিকেটেড কন্ট্রোলার এর মাধ্যমে লাইভ ভিডিও
ধারণ করতে পারবেন।EVO Lite+ এর উন্নত ক্যামেরা এবং ফিচার এটি পেশাদার কাজের জন্য
দুর্দান্ত।
Skydio 2
Skydio 2 হলো এটি আধুনিক ড্রোন যা স্বায়ত্তশাসিত ফ্লাইট ক্ষমতার জন্য খুবই
জনপ্রিয়। এতে রয়েছে ১২ মেগাপিক্সেল ছবি এবং 4K ভিডিও রেকর্ডিং ক্ষমতা। এই ড্রোন
ক্যামেরাটির ফ্লাইট টাইম প্রায় ২৩ মিনিট এবং অত্যন্ত স্থিতিশীল। এই ড্রোনটির
সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর স্বায়ত্তশাসিত ফ্লাইট সক্ষমতা যা ব্যবহারের জন্য
সহজ এবং নিরাপদ অভিজ্ঞতা প্রদান করে। এর অ্যাডভান্স লাইট মোড ক্রিয়েটিভ তৈরি
প্রদান করেন, যে আধুনিক ভিডিওগ্রাফিও ফটোগ্রাফির জন্য দারুন।
Parrot Anafi
Parrot Anafi হলো একটি হালকা ড্রোন যা ভিডিওগ্রাফি ও ফটোগ্রাফির জন্য অনেক
জনপ্রিয়। খেতে রয়েছে ২১ ছবি তোলার এবং 4K HDR ভিডিও ধারণ করার সক্ষমতা। এই
ড্রোনটির ফ্লাইট টাইম প্রায় ২৫ মিনিট এবং ১৮০ ডিগ্রি উপরে উঠতে সক্ষম। এছাড়াও
বিভিন্ন ক্রিয়েটিভ শর্ট এবং মুড এর অপশন প্রদান করে যা ভিডিওগ্রাফির জন্য অনেক
সহায়ক।
ড্রোন ক্যামেরা কিনার পূর্বে যা খেয়াল রাখবেন তার তালিকা
ড্রোন ক্যামেরা ক্রয়ের পূর্বে যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে তা জানলেই আপনি একটি
সঠিক ড্রোন ক্যামেরা ক্রয় করতে পারবেন। তো চলুন তাই আর দেরি না করে জেনে নেয়
ড্রোন ক্যামেরা কিনার পূর্বে যা খেয়াল রাখবেন তার তালিকা।
ড্রোনের উদ্দেশ্যেঃ ড্রোন ক্যামেরা ক্রয়ের পূর্বে যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে
হবে যে আপনি ড্রোনটি কি কাজের জন্য ক্রয় করবেন। যেমনঃ ভিডিওগ্রাফি, ফটোগ্রাফি বা
অভ্যন্তরীণ বাহ্যিক ফ্লাইট। বিভিন্ন উদ্দেশ্যের জন্য বিভিন্ন ধরনের ড্রোন পাওয়া
যায় যেগুলো আপনার চাহিদা অনুযায়ী আপনি ট্রাই করতে পারেন।
ব্যাটারি লাইফ ও ফ্লাইট টাইমঃ সাধারণত ব্যাটারির লাইফ ১৫ থেকে ৩০ মিনিট
পর্যন্ত হয়ে থাকে। দীর্ঘ সময় লাইফ টাইম এর জন্য অবশ্যই শক্তিশালী ব্যাটারি থাকা
আবশ্যক।
ক্যামেরার গুণমানঃ ড্রোনের ক্যামেরার রেজুলেশন যেমন 4k এবং 1080p
গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ রেজুলেশন এর ক্যামেরা ছবি এবং ভিডিওগ্রাফির জন্য অনেক
জনপ্রিয়।
ফ্লাইট রেঞ্জঃ ড্রোনের সিগনাল রেঞ্জ যেমন ১ কিমি থেকে ৫ কিমি ফ্লাইটের
দূরত্ব নির্ধারণ করা হয়। দূরবর্তী ফ্লাইটের জন্য উচ্চ রেঞ্জ অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ।
ফ্লাইট মোড ও কার্যকারিতাঃ ড্রোনের বিভিন্ন ফ্লাইট মোড যেমনঃ GPS, Follow
Me, Orbit, Waypoint, ইত্যাদি ফ্লাইটের বিভিন্ন কার্যকারিতা নির্ধারণ করে। আপনার
প্রয়োজন অনুযায়ী ফিচারস নিবেন।
রেগুলেশন ও লিগ্যালিটিঃ আপনার দেশে ড্রোন উড়ানোর আইন ও নিয়মাবলী জেনে
নিন। কিছু কিছু ড্রোন রয়েছে যেগুলো উড়ানোর জন্য অবশ্যই অনুমতি নিতে হয়।
ওয়েট এবং সাইজঃ ড্রোনের সাইজ এবং ওজন আপনার ব্যবহার অনুযায়ী। নির্বাচন
করুন তবে ওজনে হাল্কা ও সাইজে ছোট ড্রোন সহজেই বহনযোগ্য।
আরো পড়ুনঃ ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে কতদিন লাগে
সেফটি ফিচারঃ কিছু ড্রোনের সাথে এন্টি-collision সেন্সর থাকে যা আঘাত
এড়াতে সাহায্য করে। এছাড়াও যদি ড্রোনটি সিগন্যাল হারাই বা ব্যাটারি কমে যায়
এটির ফিরে আসতে অনেক সহায়তা করে।
ব্র্যান্ড ও কাস্টমার রিভিউঃ ড্রোন ক্যামেরা ক্রয়ের পূর্বে যেসব বিষয়
খেয়াল রাখতে হবে অন্যতম হচ্ছে কাস্টমার রিভিউ। প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড যেমন DJI,
Parrot, বা Autel এইসব ড্রোনগুলো সাধারণত ভালো মানের হয়। তবে ব্যবহারকারীদের
রিভিউ ও রেটিং চেক করে নিবেন এটি আপনার জন্য অনেক সহায়ক হবে।
মূল্য এবং বাজেটঃ ড্রোন এর মূল্য বিভিন্ন ফিচারস এর উপর নির্ভর করে।
সুতরাং আপনার বাজেট অনুযায়ী ড্রোন নির্বাচন করুন।
বিভিন্ন ড্রোন ক্যামেরার বৈশিষ্ট্য যা আপনি কিনার আগে খেয়াল রাখবেন
ড্রোন ক্যামেরা ক্রয়ের পূর্বে যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে এগুলো জানার পাশাপাশি
বিভিন্ন ড্রোন ক্যামেরার বৈশিষ্ট্য যা আপনি কিনার আগে খেয়াল রাখবেন সেগুলো অবশ্যই
জানতে হবে। চলুন সেগুলো জেনে নেয়।
DJI Mini 2
- এতে ১২ মেগাপিক্সেল সেন্সর এবং ৪কে ৩০ ফ্রেম/সেকেন্ড ভিডিও রেজুলেশন ক্যামেরা রয়েছে।
- ৩-অ্যাক্সিস গিম্বাল স্টেবিলাইজেশন।
- প্রায় ৩১ মিনিট ফ্লাইট টাইম।
- প্রায় ১০ কিমি ফ্লাইট রেঞ্জ।
- স্মার্টফোনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ, ছোট এবং পোর্টেবল ডিজাইন ফিচার রয়েছে।
- মূল্য প্রায় ৫০,০০০ টাকা।
DJI Mavic Air 2
- এতে ৪৮ মেগাপিক্সেল সেন্সর এবং ৪কে ৬০ ফ্রেম/সেকেন্ড ভিডিও রেজুলেশন ক্যামেরা রয়েছে।
- ৩-অ্যাক্সিস গিম্বাল স্টেবিলাইজেশন।
- প্রায় ৩৪ মিনিট ফ্লাইট টাইম।
- প্রায় ১০ কিমি ফ্লাইট রেঞ্জ।
- হাইপারল্যাপস, অটো ফলো মোড, স্লো মোশন ভিডিও ইত্যাদি ফিচার রয়েছে।
- মূল্য প্রায় ১,৩০,০০০ টাকা।
Parrot Anafi
- ক্যামেরা ২১ মেগাপিক্সেল সেন্সর এবং ৪কে ৩০ ফ্রেম/সেকেন্ড ভিডিও রেজুলেশন।
- স্টেবিলাইজেশন ৩-অ্যাক্সিস গিম্বাল।
- ফ্লাইট টাইম প্রায় ২৫ মিনিট।
- প্রায় ৪ কিমি ফ্লাইট রেঞ্জ।
- ১৮০ ডিগ্রি প্যানোরামা শুটিং, ৪কে HDR ভিডিও ফিচার রয়েছে।
- মূল্য প্রায় ৭০,০০০ টাকা।
Autel Robotics EVO Lite+
- ক্যামেরা ৫০ মেগাপিক্সেল সেন্সর এবং ৬কে ৩০ ফ্রেম/সেকেন্ড ভিডিও রেজুলেশন।
- স্টেবিলাইজেশন ৩-অ্যাক্সিস গিম্বাল।
- প্রায় ৪০ মিনিট ফ্লাইট টাইম।
- প্রায় ৭ কিমি ফ্লাইট রেঞ্জ।
- উন্নত ফটো মোড, ভয়েস নিয়ন্ত্রণ ফিচারস রয়েছে।
- মূল্য প্রায় ১,২০,০০০ টাকা।
Skydio 2
- ক্যামেরা ১২ মেগাপিক্সেল সেন্সর এবং ৪কে ৬০ ফ্রেম/সেকেন্ড ভিডিও রেজুলেশন।
- স্টেবিলাইজেশন ৩-অ্যাক্সিস গিম্বাল।
- ফ্লাইট টাইম প্রায় ২৩ মিনিট।
- ফ্লাইট রেঞ্জ প্রায় ৩ কিমি।
- উন্নত এন্টি-collision প্রযুক্তি, অটোনোমাস ফ্লাইট ফিচারস রয়েছে।
- মূল্য ১,৫০,০০০ টাকা।
ড্রোন ক্যামেরার কাজ
ড্রোন ক্যামেরার কাজ হচ্ছে মূলত আকাশ থেকে যেকোনো ধরনের ভিডিও ধারণ ও ফটো তোলা।
এছাড়াও এটি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয় যেমনঃ ভিজুয়াল কনটেন্ট তৈরি, মানচিত্র
প্রণয়ন এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ। ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে আপনি বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল
থেকে ছবি তুলতে পারবেন যা হয়তো অন্যান্য ক্যামেরা দিয়ে সম্ভব নয়।
আরো পড়ুনঃ মোবাইল দিয়ে ভিডিও এডিটিং শিখতে কত দিন লাগে
ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে বিভিন্ন ফটোগ্রাফি ও অনুষ্ঠান এর ভিডিও ধারণ করা হয় খুব
সহজেই। ড্রোন ক্যামেরা বিশেষ করে ভিডিও প্রোডাকশন, সিনেমা গ্রাফি বা রিয়েল
অ্যাসিস্ট মার্কেটিং এর সাথে জড়িত তাদের জন্য ড্রোন ক্যামেরা খুবই প্রয়োজনীয়।
ড্রোন ক্যামেরা ক্রয়ের পূর্বে যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে তার মধ্যে অন্যতম হলো
কাজের দক্ষতা এবং ফ্লাইটের স্থিতিশীলতা।
ড্রোন ক্যামেরার রেজুলেশন কত গুরুত্বপূর্ণ
ড্রোন ক্যামেরার রেজুলেশন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ রেজুলেশন এর ড্রোন ক্যামেরা
দিয়ে আপনি স্পষ্ট বিস্তারিত ছবি তুলতে পারবেন। ড্রোন ক্যামেরা ক্রয়ের পূর্বে
যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে রেজুলেশন।
রেজুলেশন বেশি হলে ছবি এবং ভিডিও এর কোয়ালিটি অনেক ভালো হয়।
যদি আপনি পেশাদার ফটোগ্রাফি বা ভিডিওগ্রাফির জন্য ক্যামেরা কিনতে চান তাহলে
অবশ্যই উচ্চ রেজুলেশন এর ক্যামেরা বেছে নিতে হবে। এছাড়াও ড্রোন ক্যামেরার আরও
একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ভিডিও কোয়ালিটি। বিশেষ করে যারা 4k ভিডিও ধারণ
করতে চান তাদের জন্য রেজুলেশন অন্যতম একটা প্রধান বিষয়।
ফ্লাইট টাইম ও ব্যাটারি লাইফ কেন বিবেচনা করবেন
ফ্লাইট টাইম ও ব্যাটারি লাইফ ড্রোন ক্যামেরার জন্য অত্যন্ত জরুরী। কেননা ফ্লাইট
টাইম ও ব্যাটারি লাইফ যত বেশি হবে ড্রোন ক্যামেরা আপনি তত বেশি সময় ধরে চালাতে
পারবেন। সাধারণত বেশিরভাগ ড্রোন ক্যামেরার ফ্লাইট টাইম ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে
হয়ে থাকে।
সাধারণত ফ্লাইট টাইম নির্ভর করে ড্রোনের ওজন, ব্যাটারির ক্যাপাসিটি এবং মোটর
পাওয়ারের উপর। ফ্লাইট টাইম ও ব্যাটারি লাইফ নির্ভর করবে আপনার প্রয়োজনীয়তার এর
উপর। সুতরাং আপনি যদি দীর্ঘ সময় ধরে লাইন করতে চান সে ক্ষেত্রে ব্যাটারি লাইফ
ভালো বিশিষ্ট এরকম একটি ড্রোন ক্রয় করতে হবে।
ড্রোনের কন্ট্রোল রেঞ্জ কতদূর হতে পারে
ড্রোনের কন্ট্রোল রেঞ্জ বলতে মূলত বুঝাই আপনি ড্রোন ক্যামেরাটি কতদূর পর্যন্ত
ব্যবহার করতে পারবেন। সাধারণত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ড্রোন ক্যামেরার রেঞ্জ ৫০০ থেকে
৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। কন্ট্রোল রেঞ্জ যত বেশি হবে আপনি ক্যামেরাটি তত
বিস্তৃত অঞ্চল থেকে ব্যবহার করতে পারবেন।
বিশেষ করে গ্রামীণ পরিবেশের বড় বড় এলাকা বা প্রকল্প ধারনের ক্ষেত্রে অনেক
সহায়ক হবে। ড্রোনের কন্ট্রোল রেঞ্জ নির্ভর করে ড্রোনের ট্রান্সমিটার এবং
রিসিভারের ক্ষমতার উপর। শুধু আমরা বলতে পারি ড্রোন ক্যামেরা ক্রয়ের পূর্বে যেসব
বিষয় খেয়াল রাখতে হবে তার মধ্যে অন্যতম একটা বিষয় আছে ড্রোনের রেঞ্জ।
ড্রোনের ক্যামেরা স্ট্যাবিলাইজেশন প্রযুক্তি
ড্রোন ক্যামেরার স্ট্যাবিলাইজেশন প্রযুক্তি আপনার ক্যামেরা থেকে ঝকঝকে ও স্থির
ছবি ও ভিডিও পাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ধরুন আপনার এমন একটি ড্রোন ক্যামেরা
রয়েছে যেটি কোটার সময় সব সময় কাঁপে, তাহলে ভিডিও ঝাপসা ও ছবি ধারন ভালো হবে
না। তাই ড্রোন ক্যামেরা ক্রয় করার সময় অবশ্যই স্ট্যাবিলাইজেশন প্রযুক্তি
নির্বাচন করা আবশ্যক।
আরো পড়ুনঃ আপওয়ার্ক এ কাজ পাওয়ার উপায়
বিশেষ করে গিম্বাল স্ট্যাবিলাইজেশন ড্রোনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার, যা ক্যামেরার
কাঁপুনি কমিয়ে চিত্রকে স্থির রাখতে সাহায্য করে। আপনার ড্রোন ক্যামেরায় ভালো
স্ট্যাবিলাইজেশন প্রযুক্তি থাকলে যে কোন পরিবেশে ঝকঝকে ছবি তুলতে পারবেন।
স্ট্যাবিলাইজেশন এর মাধ্যমে আপনি প্রফেশনাল মালের ভিডিও ধারণ করে দর্শকদের মাঝে
আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেন।
ড্রোনের ওজন ও পোর্টেবিলিটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ
ড্রোন ক্যামেরা ক্রয় করার পূর্বে অবশ্যই ড্রোনের ওজন ও পোর্টেবিলিটি খেয়াল
রাখতে হবে।ড্রোনের ওজন যত কম হবে এটি ততই ভালো। ড্রোনের ওজন কম থাকলে এটি খুব
সহজেই আপনি যেখানে সেখানে বহন করতে পারবেন। এছাড়াও এটি দীর্ঘ সময় ও পরিচালনা
করতে অনেক সুবিধা হবে। ড্রোনের পোর্টেবিলিটি সরাসরি তার ওজনের সাথে সম্পর্কিত।
একটি কম ওজনের ড্রোন সাধারণত আকারের ছোট এবং সহজে গ্রহণযোগ্য হয়।
তাই যেকোনো সময় যে কোন স্থানে ড্রোন ব্যবহার করতে চান তাহলে পোর্টেবিলিটি অবশ্যই
বিবেচনা করা উচিত। বিশেষ করে যারা ট্রাভেল ব্লগার বা ফিল্ম মেকার তাদের জন্য এটা
অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ড্রোন ক্যামেরা ক্রয়ের পূর্বে যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে
তার মধ্যে ড্রোনের ওজন ও পোর্টেবিলিটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শেষ কথা
আশা করছি আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে আপনি ড্রোন ক্যামেরা ক্রয়ের পূর্বে
যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে ইত্যাদি সম্পর্কে একটু বিস্তারিত ধারণা লাভ করতে
পেরেছেন। সুতরাং আলোচনা শেষে আমরা বলতে পারি যে, বর্তমান সময়ে ড্রোন ক্যামেরা এর
চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এটি শুধু পেশাদারদের জন্য নয় বরং অনেকেই শখের বসে
ফটোগ্রাফি বা ভিডিও ধারণের জন্য ড্রোন ক্যামেরা ক্রয় করছে।
আরো পড়ুনঃ ফাইভারে বায়ারের সাথে ভিডিও কলে করণীয়
ড্রোন ক্যামেরার সঠিক ব্যবহার ও নিয়ম মেনে চালালেই আপনি এটি দীর্ঘ সময় ব্যবহার
করতে পারবেন। যদি ড্রোন ক্যামেরা ক্রয়ের পূর্বে যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে
ইত্যাদি সম্পর্কে কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে
জানাবেন। যদি আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে আপনি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে
অবশ্যই আপনি আপনার বন্ধু বান্ধবদের সাথে শেয়ার করবেন, ধন্যবাদ।
চাঁপাই আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url