প্রেসার কমানোর উপায় - প্রেসার হাই হলে কি খেতে হবে

ধমনীতে রক্তের চাপ যখন বেশি বেড়ে যায় তখন সেই টাকে আমরা বলি উচ্চ রক্তচাপ বা হাই প্রেসার। উচ্চ রক্তচাপ বা হাই প্রেসার কে নীরব ঘাতক বলা হয়। কেননা অনেক ক্ষেত্রে এই রোগ ধরা পড়ে না। এরফলে রোগীদের অনেক সময় স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক এর সম্ভাবনা তৈরি হয়। অনেক সময় রোগী মারাও যাই।
প্রেসার কমানোর উপায় - প্রেসার হাই হলে কি খেতে হবে
আপনি যদি আমাদের এই আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়েন তাহলে প্রেসার কমানোর উপায় - প্রেসার হাই হলে কি খেতে হবে ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
পেজ সূচিপত্রঃ প্রেসার কমানোর উপায় - প্রেসার হাই হলে কি খেতে হবে

ভূমিকা

উচ্চ রক্তচাপ বা হাই প্রেসার বর্তমান সময়ে মারাত্মক একটা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকাল শুধু বয়স্ক মানুষ হই নয়, যেকোনো বয়সী মানুষের মধ্যে প্রেসার দেখা দিচ্ছে। এদের মূলত প্রধান কারণ হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনযাপন ও খাদ্যভাস। হাই প্রেসার নিয়ন্ত্রণে ওষুধ সেবনের পাশাপাশি প্রাকৃতিক কিছু উপায় অবলম্বন করেও প্রতিরোধ করা যায়।
তাই আজকের এই আর্টিকেলে আলোচনা করতে চলেছি প্রেসার কমানোর উপায় - প্রেসার হাই হলে কি খেতে হবে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক এর স্বাভাবিক প্রেসার কত, দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর উপায়, প্রেসার হাই হলে কি খেতে হবে, হাই প্রেসার হলে যেসব খাবার খাওয়া যাবে না, হাই প্রেসার প্রতিরোধে করনীয় এবং হাই প্রেসার কমানোর ঘরোয়া উপায় ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

একজন প্রাপ্তবয়স্ক এর স্বাভাবিক প্রেসার কত

প্রেসার কমানোর উপায় - প্রেসার হাই হলে কি খেতে হবে এগুলো জানার পাশাপাশি একজন প্রাপ্তবয়স্ক এর স্বাভাবিক পেশার কত তা যেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাভাবিক পেশার বা রক্তচাপের সংজ্ঞা বয়সের উপর ভিত্তি করে কম বা বেশি হতে পারে। আমরা বড় হওয়ার সাথে সাথে আমাদের শারীরবৃত্তীয় এবং শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাই যা আমাদের কার্ডিওভাস্কুলার সিস্টেমকে প্রভাবিত করতে পারে। যার মধ্যে আমাদের রক্তনালী গুলির স্থিতিস্থাপকতা এবং আমাদের হৃদপিন্ডের পেশীর শক্তি অন্তর্ভুক্ত। চলুন জেনে নেই বয়স অনুযায়ী একজন প্রাপ্তবয়স্ক এর স্বাভাবিক প্রেসার কত।

  • শিশু এবং কিশোর (১৮ বছর বয়স পর্যন্ত) এদের প্রেসারের স্বাভাবিক পরিসীমা ১২০/৮০ mmHg
  • প্রাপ্তবয়স্ক (১৮-৫৯) এই বয়সের পুরুষ এবং মহিলাদের স্বাভাবিক পেশার ১২০/৮০ mmHg এর নিচে।
  • বয়স্ক প্রাপ্তবয়স্করা ( ৬০ বছর বা তার বেশি ) এদের স্বাভাবিক পেশার এর পরিসীমা ১৪০/৯০ mmHg এর নিচে।

দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর উপায়

সারা বিশ্বজুড়ে হাই প্রেসার একটি নীরব ঘাতক হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম বই। বাংলাদেশের প্রচুর পরিমাণে মানুষ হাই প্রেসার সমস্যায় ভুগছেন। এসব রোগীরা যেকোনো সময়ই পেশার বেড়ে যাওয়া সমস্যায় ভোগেন। তাই এই সমস্যা থেকে দ্রুত কাটে উঠানোর জন্য কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকেন। চলুন জেনে নেই দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর উপায় - প্রেসার হাই হলে কি খেতে হবে।
  • দ্রুত প্রেসার বেড়ে গেলে চলাচল কমিয়ে দিন। এতে পেসার বাড়ার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায়।
  • প্রেসার কমাতে খেতে পারেন তেতুল। তেতুলের পরিবর্তে খেতে পারেন লেবুর পানি। এতেও দ্রুত পেশার কমে।
  • আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় আদা রাখুন। এটি আপনার প্রেসার নিয়ন্ত্রণ ও বেশি সিথিল করে।
  • প্রেসার বেড়ে যেতে পারে এমন ধরনের খাদ্য এড়িয়ে চলুন। সেই সঙ্গে চর্বিযুক্ত খাবার, খাবারের লবণ, ধূমপান প্রেসার বাড়াতে পারে তাই এগুলো এড়িয়ে চলুন।
  • এছাড়াও বৃষ্টি জাতীয় খাদ্য, গরুর মাংস, হাঁসের ডিম, চিনি, তেল, ঘি মাখন একেবারেই খাবেন না।

প্রেসার হাই হলে কি খেতে হবে

কেউ সামান্য পরিমাণে অসুস্থ হলেই আমরা প্রথমে ভাবি যে প্রেসার বেড়ে গেল নাকি। এই প্রেসার মূলত দিয়ে বোঝানো হয় দেহের ভেতরে প্রবাহিত রক্তের চাপ। ধমনী গুলোতে রক্তের চাপ বেশি থাকলে সেটিকে উচ্চ রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেসার বলে। হাই প্রেসার কে নিরব ঘাতক বলা হয়। শুধুমাত্র বয়স্ক না, যে কোন বয়সের মানুষেরই হাই প্রেসার থাকতে পারে।
অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন ও খাদ্যভাসের ফলে এই সমস্যা বেশি দেখা দেয়। উচ্চ রক্তচাপের কারণে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে। অনেক সময় এর ফলে রোগীর মৃত্যুর আশঙ্কাও থাকে। প্রেসার কমানোর উপায় - প্রেসার হাই হলে কি খেতে হবে এগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো।

  • প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি, ফুলকপি শসা লাউ মটরশুঁটি বাঁধাকপি রাখতে হবে।
  • পটাশিয়ামযুক্ত খাবার খেলে প্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকে। কলা, ডাবের পানি ও টমেটোতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে।
  • এক কাপ দুধ প্রতিদিন খাওয়া যেতে পারে।
  • তৈলাক্ত মাছ পরিহার করে ছোট মাছ খেতে হবে।
  • এছাড়া ফলমূল যেমন পেয়ারা, নাশপাতি, বেদনা ইত্যাদি যেকোনো একটি ফল খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন।

হাই প্রেসার হলে যেসব খাবার খাওয়া যাবে না

প্রেসার কমানোর উপায় - প্রেসার হাই হলে কি খেতে হবে ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করেছেন। কিন্তু যেসব খাবার খাওয়া যাবেনা সেগুলো না জানলে কি হয়। চলুন জেনে নেই হাই প্রেসার হলে যেসব খাবার খাওয়া যাবে না।

  • অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে।
  • চর্বিযুক্ত মাছ খাওয়া যাবে না
  • প্যাকেটজাত বা প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ করা যাবে না।
  • ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • অতিরিক্ত অ্যালকোহল ও ক্যাফিন যুক্ত পানীয় পান থেকে বিরত থাকতে হবে।

হাই প্রেসার প্রতিরোধে করনীয়

  • প্রতিদিন মিনিমাম ১ ঘন্টা ব্যায়াম করতে হবে।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম প্রতিদিন মিনিমাম ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে।
  • মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
  • অ্যালকোহল পান করা কমিয়ে দিতে হবে।
  • টোটালি ধূমপান করা যাবে না।

হাই প্রেসার কমানোর ঘরোয়া উপায়

প্রেসার কমানোর উপায় - প্রেসার হাই হলে কি খেতে হবে এর পাশাপাশি হাই প্রেসার কমানোর ঘরোয়া উপায় গুলো কি কি সেগুলোর জেনে নেই।

আদা চা

আদা চা হাই প্রেসার কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। আদা হৃদপিন্ডের সংকোচনের শক্তি এবং হার কমাতে সাহায্য করে। এক কাপ পানিতে কয়েক টুকরো আদা দিয়ে ফুটিয়ে নিন। এরপর পান করুন।

রসুন

রসুন পেশার কমাতে দ্রুত কাজ করে। হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে দুই টুকরো রসুন টুকরা টুকরা করে অথবা মধুর সাথে মিশিয়ে খেয়ে নিন। এটি আপনার প্রেসার দ্রুত কমাতে সহায়তা করে।

ভিটামিন বি ও ডি

ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন বি তে থাকা পুষ্টি উপাদান উচ্চচাপ বা হাই প্রেসার নিয়ন্ত্রণের সহায়তা করে। গোটা সংসার ডিম খাবার মাংস লেবু এবং চর্বিযুক্ত মাছ ভিটামিন সমৃদ্ধ। হাই প্রেসার নিয়ন্ত্রণে এগুলো নিয়মিত পর্যাপ্ত খাওয়া উচিত।

আপেল সিডার ভিনেগার

হাই প্রেসার কমাতে আপেল সিডার ভিনেগার অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আপেল সিডার ভিনেগার শরীরে রেনিন নামক এনজাইমের কার্যকলাপ হ্রাস করতে সহায়তা করে। এক গ্লাস গরম পানিতে তিন চা চামচ আপেল সিডার ভিনেগার যোগ করে পান করুন।

লেবুর রস

নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম এর পাশাপাশি লেবুর রস হাই প্রেসার কমাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এক গ্লাস গরম পানিতে কয়েক চা চামচ লেবুর রস ভালোভাবে মিশে পান করলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রেশার নিয়ন্ত্রণে আসে।

গ্রিন টি

প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় গ্রিন টি আমাদের শরীরের জন্য অনেক কার্যকরী ভূমিকা রাখে। গ্রিন টিতে থাকা পলিফেনাল ধমনীকে শিথিল করতে সাহায্য করে ফলে প্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকে। নিয়মিত সকালে এবং রাত্রে ঘুমাতে যাওয়ার আগে গ্রিন টি পান এর অভ্যাস অনেক কার্যকরী।

শেষ কথা

উচ্চ রক্তচাপ বা হাই প্রেসার মরণব্যাধি হলেও এটি সঠিক চিকিৎসা ও ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করে প্রতিরোধ করা যায়। নিয়মিত ব্যায়াম খাদ্য গ্রহণ ও নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করলেই এটি অনেকটা প্রতিরোধ করা যায়। আশা করছি আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে আপনি প্রেসার কমানোর উপায় - প্রেসার হাই হলে কি খেতে হবে ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করেছেন। আমাদের এই আর্টিকেলটি পরে বুঝতে কোথাও কোনো সমস্যা হলে আর্টিকেলটি পুনরায় মনোযোগের সহিত পড়ুন।
প্রেসার কমানোর উপায় - প্রেসার হাই হলে কি খেতে হবে সম্পর্কে যদি আরো জানতে চান অথবা কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাবেন। যদি আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনি আপনার বন্ধুবান্ধব, ও পাড়া-প্রতিবেশীদের মাঝে শেয়ার করুন, ধন্যবাদ।







এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

চাঁপাই আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url