পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মোট কত রাকাত
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম হলো নামাজ। নামাজ বেহেস্তের চাবি। তাই
নামাজ ছাড়া ইসলাম কল্পনা করা যায় না। নামাজ না পড়ার বিভিন্ন ধরনের শাস্তি
রয়েছে। সুতরাং মুসলিম ব্যক্তির উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা উচিত। আল্লাহ
তাআলার সাথে যোগাযোগ স্থাপনের অন্যতম একটি মাধ্যম হচ্ছে সালাত।
সালাতা আদায়ের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি আল্লাহর খুব কাছাকাছি আছে। আপনি যদি আমাদের
এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়েন তাহলে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মোট কত রাকাত ও
নামাজের নিয়ম গুলো ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে পারবেন।
পেজ সূচিপত্রঃ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মোট কত রাকাত
ভূমিকা
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন শরীফে বলেন "আমি জিন ও মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছি
শুধু আমার ইবাদতের জন্য"। এছাড়াও আল্লাহ তাআলা আমাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
ফরজ করেছেন। সুতরাং আমাদের উচিত দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায় করা।
আরো পড়ুনঃ নামাজ ভঙ্গের কারণ ১৯টি
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করতে চলেছি নামাজ কি? পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মোট কত
রাকাত, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের রাকাত সমূহ, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নাম ও সময়, পাঁচ
ওয়াক্ত নামাজের নিয়ম ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ফরজ সমূহ ইত্যাদি সম্পর্কে
বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
নামাজ কি?
নামাজ ফার্সি শব্দ (نماز) এবং সালাত আরবি শব্দ ( صلاة) এটি ইসলাম ধর্মের একটি
দৈনিক নিয়মিত ইবাদত। প্রত্যেক মুসলিম প্রাপ্তবয়স্ক নর-নারীর উপর পাঁচ ওয়াক্ত
নামাজ ফরজ করা হয়েছে। কুরআন ও হাদিসের বর্ণিত এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম এর
দেখানো অনুসারে আমাদের প্রত্যেকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া ফরজ।
ইসলামে ইচ্ছাকৃত ফরজ নামাজ না পড়া কবিরা গুনাহ বা বড় পাপ। নামাজ শুরুর সময়
"তাকবীর তাহরিমা" ও শেষের সময় "সালাম ফিরানো" দিয়ে শেষ করা হয়। পবিত্র কুরআনের
৮২ টি আয়াতে নামাজ প্রতিষ্ঠান করতে বলা হয়েছে।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মোট কত রাকাত
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মোট ১৭ রাকাত ফরজ এবং ১২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা রয়েছে।
ফরজ নামাজ প্রত্যেক মুসলমান ব্যক্তি কে আদায় করতে বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছেন
মহান আল্লাহতালা। ফরজ নামাজ না পালন করলে পবিত্র কুরআনে বহু শাস্তির বিধান
রয়েছে। এছাড়াও সুন্নতে মুয়াক্কাদা হলো জানা পড়লে গুনাহ হবে। এর সাথে সুন্নতে
জায়েদা ও নফল নামাজ রয়েছে।
সুন্নতে জায়েদা যা পড়লে অনেক সাওয়াব হবে কিন্তু ছেড়ে দিলে কোন কোন গুনহা নেই।
এছাড়াও সময়মতো নামাজ না পড়ার বহু শাস্তির বিধান রয়েছে। কেউ নামাজে অলসতা করলে
বা নামাজ পড়তে বিলম্ব করলেও তাকে জাহান্নামের শাস্তির কথা স্মরণ করে দেওয়া
হয়েছে।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের রাকাত সমূহ
ফজর
ফজরের নামাজ মোট ৪ রাকাত। প্রথমে ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা। এরপর ২ রাকাত ফরজ
নামাজ আদায় করতে হয়। ফজরের নামাজ আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এটা
কোনভাবেই ত্যাগ করা উচিত নয়।
জোহর
জোহরের নামাজ মোট ১২ রাকাত। প্রথমে ৪ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা। এরপর ৪ রাকাত
ফরজ। এরপর ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা ও ২ রাকাত নফল।
আসর
আসরের নামাজ মোট ৮ রাকাত। প্রথমে ৪ রাকাত সুন্নতে জায়েদা। এরপর চার রাকাত ফরজ
নামাজ আদায় করতে হয়। আসরের ফরজ নামাজের পর কোন নামাজ নেই।
মাগরিব
মাগরিবের নামাজ মোট ৭ রাকাত। প্রথমে ৩ রাকাত ফরজ। এরপর ২ রাকাত সুন্নতে
মুয়াক্কাদা এবং এরপর কেউ কেউ ২ রাকাত নফল নামাজ পড়ে থাকেন।
এশা
এশার নামাজ কেউ কেউ ১৫ রাকাত আবার কেউ ১৭ রাকাত পড়ে থাকেন। প্রথমে ৪ রাকাত
সুন্নতের জায়েদা। এরপর ৪ রাকাত ফরজ। এরপর ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা রয়েছে।
যেহেতু এশার এর পরেই ভেতর নামাজের সময় শুরু হয় তাই অধিকাংশ মুসল্লি এছার
নামাজের পর ৩ রাকাত বেতর পড়ে। এরপর ২ রাকাত বসে আদায় করেন। যারা ১৭ রাকাত আদায়
করেন তারা ভিতরে আগে ২ রাকাত নফল আদায় করেন।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নাম ও সময়
সময় মত নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির উপর ফরজ। এর জন্য কখন নামাজের
সময় শুরু এবং কখন শেষ হবে তা প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির জন্য জানা জরুরী। পাঁচ
ওয়াক্ত নামাজ মোট কত রাকাত জানার পাশাপাশি অবশ্যই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নাম ও
সময় সুচি গুলো ভালোভাবে জানতে হবে। চলুন তাই আর দেরি না করে জেনে নেয় পাঁচ
ওয়াক্ত নামাজের নাম ও সময়।
ফজরঃ ফজরের নামাজের সময় হলো সুবহে সাদেকের পর থেকে সূর্যোদয়ের আগ
পর্যন্ত। (মুসলিম, হাদিস : ১৪৫৬, ৯৬৬)
যোহরঃ সূর্য যখন মধ্য আসমান থেকে ঢলে পরে তখন যোহরের ওয়াক্ত শুরু হয়।
প্রতিটি বস্তুর ছায়া দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত যোহরের ওয়াক্ত বিদ্যামান থাকে এবং
ছায়া দ্বিগুণ হওয়ার পর জোহরের সময় শেষ হয়।
আসরঃ জোহরের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পর পরই আসরের ওয়াক্ত শুরু হয় এবং
সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময় থাকে।
মাগরিবঃ সূর্য অস্তের পর পরই মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হয় এবং সূর্য অস্তের
পর আকাশ থেকে লালিমা বিদায় নেওয়া পর্যন্ত সময় থাকে।
এশারঃ এসবের সময় হল আকাশের লালিমা বিদায় নেওয়ার পর থেকে সুবহে সাদিকের
আগ পর্যন্ত।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নিয়ম
আল্লাহতালা মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তার এবাদত করার জন্য। প্রত্যেক
মুসলিম ব্যক্তির উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়েছে। কিন্তু নামাজ আদায় করতে
গিয়ে এমন কতগুলো নিয়ম মেনে চলতে হয় যেগুলো না পালন করলে নামাজ কবুল হয় না।
রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেছেন, আমাকে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখো, সেভাবে
তোমরা সালাত আদায় করবে।
আরো পড়ুনঃ উদ্যোক্তা লোন কিভাবে পাওয়া যায়
নামাজের সঠিক নিয়ম না জানার কারণে অনেকের নামাজ শুদ্ধ হয় না। যার ফলে নামাজ
পড়া না পড়া দুইটাই সমান হয়। চলুন তাই আর দেরি না করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মোট
কত রাকাত এর সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নিয়ম গুলো জেনে নেয়।
- অজু বা গোসলের মাধ্যমে নিজেকে পবিত্র করে নেওয়া। পবিত্র পোশাক পরিধান করে কেবলামুখী হয়ে দাঁড়ানো।
- এরপর নামাজের নিয়ত করা
- তারপর আল্লাহু আকবার বলে দুই হাত কব্জি পর্যন্ত অথবা কান পর্যন্ত উঠানো।
- তাকবীর তাহরিমা শেষে বাম হাতের উপর ডান হাত রাখা।
- তাকবীর তাহরিমা এর পরে ছানা পাঠ করা।
- তারপর অনুচ্চস্বরে আ’উযুবিল্লা-হি মিনাশ শাইত্ব-নির রজিম পাঠ করা।
- এরপর সূরা ফাতিহা এর সাথে অন্য একটি সূরা পড়া।
- তারপর "আল্লাহু আকবার" বলে রুকুতে যাওয়া।
- এবার রুকু থেকে‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে ওঠা।
- এরপর সিজদা করতে হয়। সিজদায় কমপক্ষে তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ পাঠ করা।
- এভাবেই প্রথম রাকাত সম্পন্ন হল।
- প্রথম রাকাতের মতো করে দ্বিতীয় রাকাত সম্পন্ন করবেন।
- দ্বিতীয় রাকাত সম্পূর্ণ হলে তাশাহুদ এর জন্য বসা। দুই রাকাত সালাত হলে তাশাহুদ এরপর দরুদ ও দোয়া পাঠ করতে হয়। তবে তিন বাচ্চার রাকাত হলে তাশাহুদ পড়ে উঠে দাঁড়াতে হয়। এরপর দ্বিতীয় ও চতুর্থ রাকাত শেষে অর্থাৎ শেষ বৈঠকে তাশাহুদ, দুরুদ ও দোয়া পাঠ করতে হয়।
- সর্বশেষ সালাম ফেরানোর মাধ্যমে নামাজ শেষ করতে হয়। একবার ডান দিকে মুখ ঘুরিয়ে আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ , আরেকবার বাম দিকে মুখ ঘুরিয়ে আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ বলে নামাজ শেষ করা।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ফরজ সমূহ
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মোট কত রাকাত জানার পাশাপাশি সহি শুদ্ধভাবে নামাজ পড়তে হলে
অবশ্যই আপনাকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ফরজ সমূহ গুলি ভালোভাবে জানতে হবে। একজন
মুসলিম হিসাবে নামাজের যে ফরজ গুলি রয়েছে সেগুলো জানা অত্যন্ত জরুরী। কেননা এর
যে কোন একটি ছুটে গেলে নামাজ কবুল হয় না। নামাজের ভেতরে ও বাইরে মোট ১৩ টি ফরজ
রয়েছে।
নামাজের বাইরে ৭ টি ফরজ
- শরীর পাক থাকা।
- কাপড় পাক থাকা।
- নামাজের জায়গা পবিত্র হওয়া।
- সতর ঢাকা অর্থাৎ পুরুষের নাভি থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত এবং মহিলাদের চেহারা, দুই হাত, কবজি পর্যন্ত ও পায়ের পাতা ছাড়া সমস্ত শরীর ঢেকে রাখা।
- কিবলামুখী হওয়া।
- ওয়াক্ত মতো নামাজ আদায় করা।
- অন্তরে নামাজের নিয়ত করা।
নামাজের ভেতরে ৬টি ফরজ
- তাকবীর তাহরিমা অর্থাৎ আল্লাহু আকবার বলে নামাজ শুরু কর।
- কিয়াম অর্থাৎ দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা তবে কোন কারনে দাঁড়াতে না পারলে বসে এবং এমন কি শুয়ে ও নামাজ আদায় করা যায়।
- কিরাত পড়া অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফের কিছু অংশ তিলাওয়াত করা।
- রুকু করা।
- সিজদা করা
- শেষ বৈঠক অর্থাৎ সালাম ফিরানোর মাধ্যমে নামাজ শেষ করা।
শেষ কথা
নামাজ হলো বেহেস্তের চাবিকাঠি। আল্লাহ এবং বান্দার মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের অন্যতম
মাধ্যম হচ্ছে নামাজ। বান্দা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে নামাজের মাধ্যমে। আশা করছি
আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মোট কত রাকাত এবং নামাজের
ভিতরে এবং বাইরে ফরজ কাজ গুলি ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।
আরো পড়ুনঃ প্রেসার কমানোর উপায়
আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ে বুঝতে কোথাও কোন সমস্যা হলে আর্টিকেলটি পুনরায়
মনোযোগের সাথে পড়ুন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মোট কত রাকাত ইত্যাদি সম্পর্কে কোন
প্রশ্ন থাকে অথবা আরো বিস্তারিত জানতে চান তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে
জানাবেন।
যদি আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে আপনি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনি
আপনার বন্ধুবান্ধব কাছের মানুষ ও পাড়া-প্রতিবেশীদের কাছে শেয়ার করুন এবং
তাদেরকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে উৎসাহিত করুন, ধন্যবাদ।
চাঁপাই আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url