নামাজ না পড়ার শাস্তি - ইচ্ছাকৃত নামাজ না পড়ার শাস্তি কি

দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির উপর ফরজ করা হয়েছে। নিশ্চয়ই নামাজ মানুষকে বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে। নামাজ মনে প্রশান্তি এনে দেই। নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর খুব নিকটে যাওয়া যায়। নামাজ পড়লে যেমন বিভিন্ন ধরনের উপকার পাওয়া যায়।
নামাজ না পড়ার শাস্তি - ইচ্ছাকৃত নামাজ না পড়ার শাস্তি কি
ঠিক তেমনি নামাজ না পড়লে আল্লাহ তায়ালা শাস্তির বিধানও তৈরি করেছেন। আপনি যদি আমাদের এই আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়েন তাহলে নামাজ না পড়ার শাস্তি - ইচ্ছাকৃত নামাজ না পড়ার শাস্তি কি ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে পারবেন।
পেজ সূচিপত্রঃ নামাজ না পড়ার শাস্তি - ইচ্ছাকৃত নামাজ না পড়ার শাস্তি কি

ভূমিকা

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সৃষ্টি প্রধান উদ্দেশ্যই হচ্ছে নামাজ। পাঁচ ওয়াক্ত জামাতের সাথে নামাজ আদায় করলে ইহকালে এবং পরকালে অনেক উপকার পাওয়া যায়। পাঁচ ওয়াক্ত জামাতের সাথে নামাজ আদায় করলে ইহকালে তো শান্তি দিবেই সেই সাথে পরকালে শান্তির স্থান জান্নাত লাভ করা যায়। এছাড়াও যারা ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ভঙ্গ করে তাদের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।
আজকের এই আর্টিকেলে আমি আলোচনা করতে চলেছি নামাজ না পড়ার শাস্তি - ইচ্ছাকৃত নামাজ না পড়ার শাস্তি কি, জুমার নামাজ না পড়ার শাস্তি, মৃত্যুর পর নামাজ না পড়ার শাস্তি, ১ ওয়াক্ত নামাজ না পড়ার শাস্তি, জামায়াতে নামাজ না পড়ার শাস্তি ও ফজরের নামাজ না পড়ার শাস্তি ও হাদিস ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

নামাজ না পড়ার শাস্তি

মহান আল্লাহ তায়ালা মানব ও জিন জাতিকে শুধুমাত্র তার ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। তাই আমাদের প্রত্যেকের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়েছে। নামাজ পড়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে। নামাজ আল্লাহর এবং বান্দার মধ্যে এক অন্যরকম সম্পর্ক তৈরি করে। নামাজ না পড়ার বিভিন্ন ধরনের উপকারিতা রয়েছে। আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীল ও অন্যের কাছ থেকে বিরত রাখে।

আল্লাহতালা অন্য একটি আয়াতে সময় মতো নামাজ আদায় করতে বলেছেন। নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের জন্য সুনির্দিষ্ট সময়ের সাথে ফরজ করা হয়েছে। নামাজ না পড়লে ইহকালে এবং পরকালে উভয় জায়গায় শাস্তি ভোগ করতে হয়। তাই চলুন দেরি না করে জেনে নেই নামাজ না পড়ার শাস্তি - ইচ্ছাকৃত নামাজ না পড়ার শাস্তি কি গুলো কি কি।

  • নামাজ না পড়লে ইহকালে অশান্তি, হতাশা অভাব অনটন ও দুঃখ কষ্ট লেগেই থাকে।
  • নামাজ না পড়লে জীবনের হাই রোজগারের বরকত শূন্য হয়ে যায়।
  • চেহারা থেকে নূর ও জ্যোতি উঠিয়ে নেওয়া হয়।
  • ভালো কাজ করেও সুফল ভোগ করা যায় না।
  • দোয়া করলেও আল্লাহ তায়ালা কবুল করেন না।
  • আল্লাহ তাআলা ও ফেরেশতাগণ অসন্তুষ্ট থাকবেন যার ফলে আমাদের মনের অস্থিরতা লেগেই থাকবে।
  • ইসলামের শান্তি ও প্রতিশ্রুতি থেকে বঞ্চিত হবেন।
  • নামাজ না পড়লে পরকালে সবচেয়ে কঠিন স্থান জাহান্নামে যেতে হবে।
হাদিসে এসেছেন, যে ব্যক্তি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত জামাতের সাথে সালাত আদায় করবে তার ইহকাল এবং পরকাল অত্যন্ত সুখকর ও কল্যাণময় হবে। আরো বলা হয়েছে যে ব্যক্তি গুরুত্বের সাথে নিয়মিত নামাজ আদায় করবে কিয়ামতের দিন বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতে নামাজ হবে তার আলো হয়।

জুমার নামাজ না পড়ার শাস্তি

সপ্তাহে সাত দিনের মধ্যে অন্যতম দিন হচ্ছে শুক্রবার অর্থাৎ জুম্মার দিন। ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী এই জুম্মার দিনকে সাপ্তাহিক ঈদ বলা হয়। মহান আল্লাহ তা'আলা এই দিনকে অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক মর্যাদাবান করেছেন। জুম্মার নামাজের গুরুত্বের কথা বোঝাতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন
হে মুমিনগণ জুম্মার দিন যখন নামাজের জন্য ডাকা হয়, তখন আল্লাহর স্মরণের দিকে এসো। জুম্মার দিন তোমরা আগে থেকেই জুম্মার নামাজ পড়ার জন্য পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করো। জুম্মার নামাজ না পড়ার অনেক শাস্তি রয়েছে। চলুন জুম্মার নামাজ না পড়ার শাস্তি গুলো কি কি জেনে নেয়।

  • জুম্মার দিন আজান হলেই মহান আল্লাহতালা সব কাজ ছেড়ে মসজিদে চলে আসার হুকুম দিয়েছেন। কিন্তু এর পরেও যদি কেউ কাজ ছেড়ে নামাজে না আসে তার জন্য কঠিন শাস্তি রয়েছে।
  • রসুল সাঃ ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি পরপর তিনটি জুম্মা বিনা কারণে অথবা ইচ্ছা করে ছেড়ে দেবে, আল্লাহ তাআলা ওই ব্যক্তির অন্তরে মোহর মেরে দেবেন।
  • চার শ্রেণীর লোক ব্যতীত জুম্মার নামাজ ত্যাগ করা কবিরা গুনাহ। যেমনঃ ক্রীতদাস, স্ত্রীলোক, ও প্রাপ্তবয়স্ক বালক, মুসাফির ও রোগাক্রান্ত ব্যক্তি।

মৃত্যুর পর নামাজ না পড়ার শাস্তি

আল্লাহ তায়ালা মানুষকে উত্তম আকৃতিতে ও শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। এবং তার সৃষ্টির প্রধান উদ্দেশ্যই হচ্ছে তার দাসত্ব ও ইবাদত বন্দেগী করা। পৃথিবীর প্রত্যেকটা জীব এর জন্ম এবং মৃত্যু রয়েছে। আল্লাহ তাআলা আমাদের মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করবেন এবং দুনিয়াবী কাজ কর্মের হিসাব নিকাশ নিবেন।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম সালাতের হিসাব নেওয়া হবে। মৃত্যুর পর নামাজ না পড়ার শাস্তি বিধান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন। চলুন সেগুলো জেনে নেয়।
  • মৃত্যুর পর কঠিন শাস্তির স্থান জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করা হবে।
  • তাহার খবর এতটাই সংকীর্ণ হবে যে এক পাশের হাড় ওপর বাসের হাড়ের সঙ্গে মিলিয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে।
  • তাহার কবরে দিনরাত আগুন জ্বালিয়া রাখা হবে।
  • আল্লাহ তাআলা তার কবরে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করবেন। তিনি তার হাতে থাক একটি লোহার হাতুড়ি দিয়ে সারাক্ষণ পিটাতে থাকবেন। সে ফেরেস্তা বলতে থাকবে দুনিয়াতে নামাজ পড় নাই যে তার শাস্তি এখন ভোগ করো।

১ ওয়াক্ত নামাজ না পড়ার শাস্তি

১ ওয়াক্ত নামাজ না পড়ার শাস্তির বিধান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআন শরীফে উল্লেখ করেছেন যদি কোন ব্যক্তি ১ ওয়াক্ত নামাজ না পড়ে তাহলে সেই ব্যক্তিকে দুই কোটি বছর জাহান্নামে থাকতে হবে। এটা আমাদের কোন কোরআন হাদিসের কথা নয়। এটা আমাদের বানানো কথা তবে যদি কেউ ১ ওয়াক্ত নামাজ বাদ দেই তবে তাকে আল্লাহতালা শাস্তি প্রদান করবেন।
মুসলিম এবং মুনাফিকদের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে নামাজে। শুধুমাত্র মুখে মুসলিম দাবি করলেই হবে না আমাদের কাজেও দেখাতে হবে। আল্লাহ তাআলা ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর দেখানো পথে অনুসারে চলতে হবে। নিয়মিত জামাতের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে হবে।

জামায়াতে নামাজ না পড়ার শাস্তি

মহানবী সাল্লাল্লাহু ওয়াসাল্লাম সারাজীবন জামাতের সাথে নামাজ আদায় করেছে। জামাতে নামাজ আদায় করলে ১ রাকাতে ২৭ রাকাত সওয়াব লাভ করা যায়। জামাতে নামাজ আদায় করলে প্রতি কদমে নেকি লাভ করা যায় এবং গুনাহ মাফ হয়। নবীজি (সা) সবসময়ই জামাত তরফ করতেন এমনকি তিনি অসুস্থ অবস্থায় জামাতের সাথে নামাজ আদায় করতেন।

ফজরের নামাজ না পড়ার শাস্তি ও হাদিস

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে এশার ও ফজরের জামাতের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। কেননা এই সময় মানুষ পরিবারের সাথে বেশি সময় কাটাই। তাই জামাতের সাথে নামাজ পড়তে একটু অবহেলা করে। মহানবী (সাঃ) বলেছেন এশার ও ফজর মুনাফিকদের জন্য সবচেয়ে কঠিন নামাজ আদায় করা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ফজরের নামাজ না পড়ার বহু শাস্তি বিধান প্রদান করেছেন। চলুন জেনে নেই ফজরের নামাজ না পড়ার শাস্তি গুলো কি কি।
  • আপনার চেহারার সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাবে।
  • আপনার রুজি রোজগারের বরকত কমে যাবে।
  • মনে অস্থিরতা কাজ করবে।
  • দোয়া করেও আল্লাহ তায়ালা দোয়া কবুল করবেন না।

হাদিস

  • রাসুল সাঃ বলেছেন তোমরা যদি ফজর ও এশার এর ফজিলত সম্পর্কে জানতে তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে শরিক হতে।
  • জামাতের সাথে ফজর ও এশার সালাত সম্পর্কে অন্য একটা হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি এশার ও ফজর জামাতের সঙ্গে পড়ল, সে যেন সারারাত দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ল।
  • রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ফজরের নামাজের সময় হলো, ঊষার উদয় থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত।
  • মহানবী (সাঃ) আরো বলেছেন, যে ব্যক্তি নামাজ আদায় করতে ভুলে যাই বা সে সময় ঘুমিয়ে থাকাই ছুটে যাই, তাহলে তার কাফরা হল সে যখনই মনে করবে তার সাথে সাথে নামাজ আদায় করে নেই।

শেষ কথা

নামাজ বেহেস্তের চাবিকাঠি। সুতরাং প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নর নারীদের উচিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করলে ইহকাল এবং পরকাল অনেক সুখকর হয়। আশা করছি আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে আপনি নামাজ না পড়ার শাস্তি - ইচ্ছাকৃত নামাজ না পড়ার শাস্তি কি ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত একটা ধারণা লাভ করতে পেরেছেন। যদি আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ে বুঝতে কোথাও কোন সমস্যা হয় তাহলে আর্টিকেলটি পুনরায় মনোযোগের সহিত পড়ুন।
নামাজ না পড়ার শাস্তি - ইচ্ছাকৃত নামাজ না পড়ার শাস্তি কি ইত্যাদি সম্পর্কে কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকে তো অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাবেন। যদি আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনি আপনার বন্ধু-বান্ধব, কাছের মানুষ ও পাড়া-প্রতিবেশীদের সাথে শেয়ার করুন এবং তাদের পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামাতের সাথে আদায় করতে উৎসাহিত করুন, ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

চাঁপাই আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url