নামাজ ভঙ্গের কারণ ১৯টি
আল্লাহ তাআলা মানুষকে "আশরাফুল মাখলুকাত" অর্থাৎ সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সৃষ্টি
করেছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘অবশ্যই আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে
সুন্দরতম অবয়বে।’ (সুরা তিন, আয়াত :৪)।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সৃষ্টির প্রথম ও প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে নামাজ। আর এই নামাজ
কবুলের পূর্ব শর্ত হচ্ছে ওযু। নামাজ ভঙ্গের অনেক কারণ থাকলেও সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য
নামাজ ভঙ্গের কারণ ১৯টি আলোচনা করা হলো।
পেজ সূচিপত্রঃ নামাজ ভঙ্গের কারণ ১৯টি
ভূমিকা
প্রত্যেক মুসলিম নর নারীর উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়েছে। সুতরাং আমাদের
উচিত প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া। নামাজ পড়তে গিয়ে আমাদের কতগুলো বিষয়
খেয়াল রাখতে হয় তা না হলে নামাজ ভঙ্গ হয়ে যায়। আজকের এই আর্টিকেলে আলোচনা
করতে চলেছি না নামাজ ভঙ্গের কারণ ১৯টি, নামাজ ভঙ্গের কারণ দলিল সহ, অজু ভঙ্গের
কারণ ৯টি, নামাজের নিষিদ্ধ সময়, নামাজ না পড়ার শাস্তি ইত্যাদি।
নামাজ ভঙ্গের কারণ ১৯টি
নামাজ কবুলের পূর্ব শর্ত হচ্ছে ওযু। অজু ছাড়া নামাজ কবুল হয় না। নিম্নে নামাজ
ভঙ্গের কারণ ১৯টি উল্লেখ করা হলোঃ
- নামাজে অশুদ্ধ তেলাওয়াত করা।
- নামাজের ভেতর কথা বলা।
- নামাজ অবস্থায় কাউকে সালাম দেওয়া।
- নামাজ অবস্থায় উচ্চস্বরে কথা বলা বা দুঃখে উহ-আহ শব্দ করা।
- বিনা কারণে হাতি বা কাশি দিলে।
- নামাজ অবস্থায় কারো সালামের উত্তর দিলে।
- আমলে কাশির করা।
- যেকোনো বিপদে আপদে নামাজরত অবস্থায় শব্দ করে কাঁদলে।
- তিন তাছবিহ পরিমাণ সময় ছতর খুলে থাকা।
- মুক্তাদী ব্যতীত অন্য কোন লোকের লোকমা গ্রহণ করা।
- দুঃসংবাদ বা সুসংবাদের উত্তর দেয়া।
- অপবিত্র জায়গায় সেজদা করা
- কেবলার দিক হইতে সিনা ফিরিয়ে নেওয়া।
- নামাজে কুরআন দেখে দেখে পড়া।
- নামাজের শব্দ করে হাসা।
- নামাজের সাংসারিক বা দুনিয়াবী কোন কিছু প্রার্থনা করা।
- ইমামের আগে মুক্তাদির দাঁড়ানো।
- নামাজরত অবস্থায় খাওয়া বা পান করা।
- হাঁচির জবাব দেয়া।
নামাজ ভঙ্গের কারণ দলিল সহ
যেহেতু আমাদের সৃষ্টির প্রধান উদ্দেশ্যই হচ্ছে নামাজ। নামাজ না পড়লে আমাদের
ইহকাল এবং পরকালে শাস্তি ভোগ করতে হবে। সুতরাং আমরা প্রতিদিন যেখানেই থাকি না কেন
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক। নামাজ ভঙ্গের কারণ ১৯টি দলিল
সহ নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
নামাজ ভঙ্গের কারণ ১৯টি এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নামাজে অশুদ্ধ তেলাওয়াত করা।
(ফাতাওয়ায়ে শামি : ১/৬৩৩-৬৩৪, হিন্দিয়া : ১/৮০, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত :
৩/৩৪৪)
নামাজের ভেতর কথা বলা। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ১/৬১৩, আল বাহরুর রায়েক : ২/২)
নামাজ অবস্থায় কাউকে সালাম দেওয়া। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ২/৯২, আল বাহরুর রায়েক :
২/১২০)
নামাজ অবস্থায় উচ্চস্বরে কথা বলা বা দুঃখে উহ-আহ শব্দ করা। (আদ্দুররুল মুখতার :
১/৬১৯, আল বাহরুর রায়েক : ২/৪, মারাকিল ফালাহ : ১/১২১)
বিনা কারণে হাতি বা কাশি দিলে। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ৩/৬১৮, মারাকিল ফালাহ : ১/১২১,
আল বাহরুর রায়েক : ২/৫)
নামাজ অবস্থায় কারো সালামের উত্তর দিলে। (বুখারি, হাদিস : ১২১৭)
আমলে কাশির করা। (ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ৩/৪৮৫, ফাতাওয়ায়ে শামি : ১/৬২৪-৬২৫,
বায়েউস সানায়ে : ১/২৪১)
যেকোনো বিপদে আপদে নামাজরত অবস্থায় শব্দ করে কাঁদলে। (হাশিয়াতু তাহতাবি : ১/৩২৫,
ফাতাওয়ায়ে শামি : ১/৬১৯, নুরুল ইজাহ, পৃ. ৬৮)
তিন তাছবিহ পরিমাণ সময় ছতর খুলে থাকা। (ফাতওয়ায়ে শামি : ১/২৭৩, কাফি : ১/২৩৮,
মাওয়াহিবুল জলিল : ১/৩৯৮, মুগনিল মুহতাজ : ১/১৮৮, হাশিয়াতুত তাহতাবি : ১/৩৩৭)
মুক্তাদী ব্যতীত অন্য কোন লোকের লোকমা গ্রহণ করা। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ১/৬২২,
হিন্দিয়া : ১/৯৮)
দুঃসংবাদ বা সুসংবাদের উত্তর দেয়া। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ১/৬১৩, আল বাহরুর রায়েক :
২/২)
অপবিত্র জায়গায় সেজদা করা। (বাদায়েউস সানায়ে : ১/১১৫, আল বাহরুর রায়েক : ২/৩৭,
তাবয়িনুল হাকায়েক : ১/৯৫)
কেবলার দিক হইতে সিনা ফিরিয়ে নেওয়া।(মারাকিল ফালাহ : ১/১২১, নূরুল ঈজাহ : ১/৬৮)
নামাজে কুরআন দেখে দেখে পড়া। নামাজ ভঙ্গের কারণ ১৯টি এর মধ্যে অন্যতম (মারাকিল
ফালাহ ১/১২৪, হাশিয়াতুত তাহতাবি ১/৩৩৬)
নামাজের শব্দ করে হাসা। (কানজুদ্দাকায়েক : ১/১৪০)
নামাজের সাংসারিক বা দুনিয়াবী কোন কিছু প্রার্থনা করা। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ১/৬১৯,
আল বাহরুর রায়েক : ২/৩)
ইমামের আগে মুক্তাদির দাঁড়ানো। (বাদায়েউস সানায়ে : ১/১৫৯, আল মাবসুত লিস সারাখসি
: ১/৪৩)
হাঁচির জবাব দেওয়া। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ২/১১৭)
নামাজরত অবস্থায় খাওয়া ও পান করা। (মারাকিল ফালাহ : ১/১২১, নুরুল ঈজাহ : ১/৬৮)
ওযু ভঙ্গের কারণ ৯টি
নামাজ বেহেস্তের চাবি। আর ওপর দিকে নামাজ কবুলের পূর্ব শর্ত হলো ওযু। ছাড়া নামাজ
হয় না। যদি কোনো কারণে ওযু ভঙ্গ হয়ে যায় তবে পুনরায় ওযু করে নেওয়াই
উত্তম।যেহেতু আপনি নামাজ ভঙ্গের কারণ ১৯টি জেনেছেন সুতরাং ওযু ভঙ্গের কারণ ৯টি
জানতে হবে। নিচের ওযু ভঙ্গের ৯টি কারণ উল্লেখ করা হলোঃ
- পায়খানা বা প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে কোন কিছু বের হওয়া।
- শরীরের কোন অংশ দিয়ে রক্ত, পূঁজ, বা পানি বের হলে।
- বমি করলে
- থুতুর সঙ্গে সমানভাগ বেশি রক্ত বের হলে।
- চিত বা কাত হয়ে হেলান দিয়ে ঘুমালে।
- অজ্ঞান মাতাল বা অসচেতন হলে।
- নামাজের উচ্চস্বরে হাসি দিলে।
- উটের গোশত খেলে।
- বিনা কারণে লজ্জাস্থান খালি হাতে স্পর্শ করবে। তবে প্রয়োজনে কাপড়ের উপর দিয়ে স্পর্শ করলে অজু ভঙ্গ হয় না।
নামাজের নিষিদ্ধ সময়
নামাজ ইসলামের মূল ভিত্তি। প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর উপর নামাজ ফরজ করা হয়েছে।
মুমিন ও কাফেরদের মধ্যে পার্থক্য হল নামাজে। নামাজ আদায়ের জন্য কিছু নির্দিষ্ট
সময় রয়েছে। সেই সময়ে নামাজ আদায় করা জরুরী। যেহেতু নামাজ ভঙ্গের কারণ ১৯টি
রয়েছে সেহেতু এমন কিছু সময় রয়েছে যে সময় নামাজ আদায় করতে নিষেধ করা হয়েছে।
চলুন জেনে নেই নামাজের নিষিদ্ধ সময় গুলোঃ
আসরের নামাজের পর থেকে সূর্য ডুবা পর্যন্ত এই সময় নামাজ পড়তে নিষেধ করা হয়েছে।
ফজরের নামাজের পর থেকে সূর্য না ওঠা পর্যন্ত।
ঠিক সূর্য উদয় হওয়ার পর থেকে একটু উঁচু না হওয়া পর্যন্ত।
সূর্য ডোবার কাছাকাছি হওয়া থেকে ডুবে না যাওয়া পর্যন্ত।
সূর্য ঠিক মাথার উপর আসার পর থেকে একটু ঢলে না যাওয়া পর্যন্ত।
নামাজ নিয়ে উক্তি
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নামাজ। আল্লাহ তালা পবিত্র কুরআনে
বলেছেন নামাজ বেহেস্তের চাবি। প্রত্যেক মুসলমান নর নারীর উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
ফরজ করা হয়েছে। কেউ যদি নামাজ না পড়ে তাহলে তাকে ইহকালে এবং পরকালে ভোগ করতে
হবে। সুতরাং প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর উচিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা। নামাজ
ভঙ্গের কারণ ১৯টি জানলেন চলুন কয়েকটি নামাজ নিয়ে উক্তি জেনে নিই।
নামাজ হলো জান্নাতের চাবি।
নামাজ ছাড়া ঈমান অসম্পূর্ণ।
নামাজ হৃদয়ের প্রশান্তি এনে দেয়।
নামাজ হলো মুমিনের নূর, যা তার জীবনের অন্ধকার দূর করে।
নামাজ মুমিনের মেরাজ।
নামাজ মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। নামাজ মানুষের অন্তরকে পবিত্র করে এবং তাকে
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সহায়তা করে।
নামাজ হলো দিনের সবচেয়ে সুন্দর অংশ। নামাজের মাধ্যমে প্রতিদিনের কাজের মধ্যে
শান্তি ও সুস্থিরতা আসে।
নামাজ হলো জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতার চাবি। নামাজ মানুষকে জীবনের প্রতিটি
ক্ষেত্রে সফল হতে সাহায্য করে।
নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর কাছাকাছি যাওয়া যায়। নামাজ আল্লাহর সাথে মুমিনের
সম্পর্ককে মজবুত করে।
নামাজ মুমিনের জন্য ঢালস্বরূপ। নামাজ মানুষের পাপ থেকে রক্ষা করে এবং তাকে
নৈতিকতার পথে পরিচালিত করে।
আল্লাহর সাথে কথা বলার জন্য সব থেকে উত্তম মাধ্যম হলো নামাজ।
পরম করুণাময় আল্লাহ বলেন সেই ও বান্দা জাহান্নামে যাবে না, যে আমাকে (আল্লাহকে)
একবার হলেও সেজদাহ করেছে।
মহানবী (সঃ) বলেন কোনো ব্যক্তি সালাত আদায়ের জন্য আগে থেকে অপেক্ষা করলে
অপেক্ষমান সময়ের জন্য তার আমলনামায় সলাত আদায়ের সমপরিমান সওয়াব লেখা হবে।
মহনবী (সঃ) একটা হাদীসে বলেন নামাজ হচ্ছে মুমিন ও কাফেরের মধ্যকার পাথ্যর্ককারী।
যখন কেউ নামাজের জন্য মসজিদে প্রবেশ করে তখন শয়তান তার কাছ থেকে পালিয়ে যায়।
সুরা আল বাকারাতে ১৫৩ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ হে মুমিনগণ, ধৈর্য ধরো এবং
নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।
মহনবী (সঃ) বলেন নামায জান্নাতের চাবিকাঠি, তাই জান্নাতের দরজা খুলতে চাইলে নামায
আদায় করো।
মহানবী (সঃ) নামাজ নিয়ে উক্তি বলতে বলতে হঠাৎ বললেনঃ যে ব্যক্তি নামাযের প্রতি
উদাসীন সে মুনাফিকদের অন্তরভূক্ত আর অল্লাহ তায়লা বলেন নিশ্চয় মুনাফিকরা হবে
জাহান্নামী।
আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ নিশ্চয় আমিই আল্লাহ্ আমি ব্যতীত কোন সত্য ইলাহ নেই । অতএব
তোমরা আমার এবাদত করো এবং আমার স্মরণার্থে সালাত কায়েম কর।
সবাই আল্লাহর অভিমুখী হও এবং ভয় করো, নামায কায়েম কর এবং মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত
হয়ো না।
কোনো পাপের কারণে কোন নামাজি ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করলেও তার সেজদার অঙ্গ
জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবেনা।
নামাজ হলো হৃদয়ের আলো। যে চায় সে তার হৃদয়কে আরোকিত করতে পারে।
নামাজ না পড়ার শাস্তি
ইসলাম ধর্মের প্রত্যেক মুসলমান ব্যক্তির উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়েছে।
নামাজ না পড়লে ইহকালে ও পরকালে মুক্তি অসম্ভব। নামাজ মানুষকে সকল প্রকার পাপাচার
থেকে মুক্ত রাখে। সবচেয়ে সুন্দর ও আলোকিতময় জীবন যাপন করতে নামাজের কোন বিকল্প
নেই।
আল্লাহ তাআলা বলেন, নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীল ও অন্যায় কাছ থেকে বিরত রাখে। নামাজ
ভঙ্গের কারণ ১৯টি তো জেনেছেন তাহলে চলুন নামাজ না পড়ার শাস্তি কি কি হতে পারে
সেগুলো জেনে নেই। নিম্নে নামাজ না পড়ার শাস্তি গুলো উল্লেখ করা হলো।
আল্লাহ তায়ালা সময়মতো নামাজ আদায় করতে বলেছেন। "নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের জন্য
সুনির্দিষ্ট সময়ের সাথেই ফরজ করা হয়েছে"। (সুরা : আন-নিসা, আয়াত: ১০৩)
যারা নামাজের বিষয়ে উদাসীন তাদেরকে সতর্ক করে আল্লাহ তায়ালা বলেন, দুর্ভোগ ওই
সমস্ত নামাজিদের জন্য, যারা নিজেদের নামাজের ব্যাপারে উদাসীন। (সুরা : আল-মাউন,
আয়াত: ৪-৫)
নামাজ না পড়লে শুধু পরকালেই নয়, দুনিয়ার জীবনেও নেমে আসে অশান্তি, হতাশা,
অভাব-অনটন, দুঃখ-কষ্ট।
আল্লাহতায়ালা নামাজ ত্যাগকারীকে দুনিয়ার জীবনে সব কাজের বরকত থেকে বঞ্চিত করেন।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তির আসরের
সালাত কাজা হয় তার পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ সবই যেন ধ্বংস হয়ে গেল। (মুসলিম,
হাদিস : ১৩০৪)
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য হাদিসে বলেন, ‘নামাজ হলো ঈমানদার ও
কাফেরের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়কারী। আবার যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ছেড়ে দিল
তবে সে কুফরি করল’। (তিরমিজি : ২৬২০, আবু দাউদ: ৪৬৭৮)
নামাজ ত্যাগকারী ব্যক্তির চেহারায় কোনো নূর বা উজ্জ্বলতা থাকে না।
যে ব্যক্তি নামাজ ত্যাগ করে, ওই ব্যক্তি দুনিয়ার অন্যান্য ভালো কাজের কোনো
পুরস্কারও পাবে না।
নামাজ ত্যাগকারী ব্যক্তির জন্য কোনো লোক দোয়া করলে, তা কাজে আসবে না।
নামাজ পরিত্যাগকারী ব্যক্তি দুনিয়ার প্রতিটি পদক্ষেপেই আল্লাহতায়ালা সব
সৃষ্টিজীবের কাছে ঘৃণিত। কোনো সৃষ্টিজীবই তাকে পছন্দ করবে না।
ইসলামের শান্তি ও প্রতিশ্রুতি থেকে বঞ্চিত হবে। (শারহুল আকিদাতুত তাহাবি : ২৬৮)
হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যত্নের সঙ্গে আদায় করবেন,
কেয়ামতের দিন এ নামাজ তার জন্য আলো হবে।
এত কিছুর পরও যদি আমরা নামাজ আদায় না করি, আমাদের মতো হতভাগা আর কেউ নয়। যে
আল্লাহ আমাকে এত কিছু দিয়েছেন, তার জন্য আমরা দিনের ২৪ ঘণ্টা থেকে ৫ ওয়াক্ত
নামাজের জন্য এক ঘণ্টা দিতে পারবো না। আল্লাহ আমাদের সবাইকে নামাজের গুরুত্ব বুঝে
নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন।
শেষ কথা
আশা করছি নামাজ ভঙ্গের কারণ ১৯টি জানতে পেরেছেন। এছাড়াও নামাজ ভঙ্গের আরো অনেক
কারণ রয়েছে।কোনো প্রাপ্তবয়স্ক নারী পাশে এসে নামাজে দাঁড়িয়ে যাওয়া, ইমামের আগে
কোনো রোকন আদায় করে ফেলা, ইচ্ছাকৃত অজু ভাঙার মতো কোনো কাজ করে ফেলা, মাতাল কিংবা
অচেতন হয়ে যাওয়া ইত্যাদি নামাজ ভঙ্গের কারণ।
নামাজ ভঙ্গের কারণ ১৯টি সম্পর্কে কোন মতামত থাকলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে
জানাবেন। যদি আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে নামাজ ভঙ্গের কারণ ১৯টি পড়ে
আপনি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনি আপনার বন্ধুবান্ধবদের সাথে শেয়ার করতে
ভুলবেন না, ধন্যবাদ।
চাঁপাই আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url